সেলিম রানা, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১১:৪২ এএম
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১২:২২ পিএম
ঢাকা থেকে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলমুখী রেলপথের কালিয়াকৈর অংশে কংক্রিটের স্লিপার দেবে গেছে। প্রবা ফটো
ঢাকা থেকে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলমুখী রেলপথের কালিয়াকৈর উপজেলার অংশে কংক্রিটের স্লিপার দেবে গেছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে এই রুটের রেল চলাচল। প্রতিদিন এই পথে গড়ে ৪০টি ট্রেন যাতায়াত করে। ফলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাটিকাটা রেল গেট থেকে সরকার বাড়ি পাকারমাথা পর্যন্ত রেলপথের বেহাল অবস্থা। এছাড়া মৌচাক রেলওয়ে স্টেশন থেকে বঙ্গবন্ধু হাইটেক রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত রেললাইনে পাথর কম থাকার কারণে কংক্রিটের স্লিপার মাটিতে দেবে গেছে। ট্রেন চলার সময় স্লিপারগুলোতে কম্পন হতে দেখা যায়। এক দিকে হেলে পড়ে রেলগাড়ির কোচগুলো। স্লিপারের ওপরে রেললাইন আটকে ধরে রাখার জন্য রেললাইনের দুই পাশে দুটি করে একই মাপের ক্লিপ ব্যবহার করা হয়। রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা ক্লিপগুলো খুলে নিয়ে যায়। লকবিহীন লাইন যেকোনো মুহূর্তে বেকে রেল গাড়ি লাইনচ্যুত হতে পারে।
উপজেলার মৌচাক থেকে কালিয়াকৈর বঙ্গবন্ধু হাইটেক রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত হাঁটলেই চোখে পড়ে রেল লাইনের স্লিপারের সঙ্গে আটকানো ক্লিপগুলোর উধাও হওয়ার দৃশ্য। আবার কোনো জায়গায় স্লিপারের সঙ্গে লাগানো ক্লিপের নিচের অংশে কাটা এবং কয়েকটি অংশে থেতলানো দেখা যায়। দিন দিন রেললাইনের পথটি যেন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে যাত্রীদের জন্য।
স্থানীয় পোশাক কারখানায় কর্মরত আফজাল হোসেন বলেন, প্রতিদিন এই রেললাইন ধরে কর্মস্থলে যাই। দীর্ঘদিন বিভিন্ন স্থানে লাইনের স্লিপার দেবে আছে। নতুন করে আরো বেশ কিছু স্থানে স্লিপার দেবে যাচ্ছে। এছাড়াও কিছু কিছু স্থানে স্লিপার ও রেললাইনের ক্লিপসহ রাবারের প্যাড নেই। রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা এইসব জিনিস চুরি করে নিয়ে যায়। বিকেল বেলা যে সব স্থানে ক্লিপ নড়বড়ে দেখে যায় পরের দিন ঠিক ওই স্থানগুলোতে ক্লিপ দেখা যায় না। যেভাবে ক্লিপ চুরির ঘটনা ঘটছে, এতে করে ক্লিপ শূন্য হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায়। শিগগিরই কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।
রেললাইনের আশপাশের এলাকার কয়েকজন জানান, রাতে হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে অথবা লোহা কাটার ধারালো ব্লেড দিয়ে কেটে ক্লিপ চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রেন সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, ক্লিপ না থাকায় রেললাইন নড়বড়ে হয়ে গেছে। অপরদিকে কিছু কিছু স্থানে কংক্রিটের স্লিপার মাটিতে দেবে যাওয়ায় আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এই রেলপথটি। বিশেষ করে মাটিকাটা রেল গেট থেকে পাকারমাথা পর্যন্ত অংশে বেশি পরিমাণ ক্লিপ চুরির ঘটনা ঘটছে। এর ফলে যেকোনো সময় ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঘটার আগেই ও যাত্রীদের ট্রেন যাত্রা নিরাপদ করতে দ্রুতই ব্যবস্থা নেবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় প্রকৌশলী -২ বীরবল মন্ডল বলেন, বৃষ্টির সময় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় রেল লাইনের কিছু অংশের স্লিপার দেবে যায়। অবৈধ দখলদারদের কারণে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা হয়নি। তবে শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। পানি প্রবাহ ঠিক থাকলে লাইনে কোন ত্রুটি দেখা দেবে না। ট্রেন চলাচলে তেমন কোনো ঝুঁকি নেই। প্রতিনিয়ত আমাদের টিম সংস্কারে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। রেল লাইনের ক্লিপ হারানো বা চুরির বিষয়ে নিয়মিত মামলা দেয়া হয়ে থাকে।
পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ জানান, যাত্রীদের ঝুঁকিমুক্ত ট্রেন চলাচলের পরিস্থিতি এখনও আছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। শিগগিরই রেল লাইনের টহল বাড়ানোসহ বর্ষার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে।