ফেনী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১০:০৫ এএম
আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১০:৪৪ এএম
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার মুহুরী নদীতে অবাধে বালু তোলায় হুমকির মুখে পড়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। প্রবা ফটো
মুহুরী নদীর ফুলগাজী অংশে বালুমহাল ইজারা নিয়ে শর্ত ভঙ্গ করে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবলীগের দুই প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও ফেনী-বিলোনীয়া পুরাতন রেল সেতু। এ ছাড়া চার স্থানে নদীতীরবর্তী কবরস্থান, ফসলি জমি ও গাছের বাগানও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সালেহ আহম্মদ মিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক একরাম পাটোয়ারীর মালিকানাধীন ফুলগাজী বাজারের পুরাতন রেললাইন সংলগ্ন স্থানে ছয়টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। এর পাশেই রয়েছে ফসলি জমি আর গাছের বাগান। জমিতে আবাদ রয়েছে বোরো ধান। অল্প অল্প ভেঙে ফসলি জমি নদীতে পড়ে যাচ্ছে। ফসলি জমির পাশ দিয়ে বালু তোলার পাইপ টানা হয়েছে। বালু তোলার কারণে ফসলি জমি ভেঙে নদীতে হারিয়ে যাচ্ছে। এসব বালু দিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে আশরাফিয়া মাদ্রাসার পাশে মাছের ঘের ভরাট করা হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ফুলগাজী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সালেহ আহম্মদ মিন্টুকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল দিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
জমির মালিক সরকারের হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের অডিটর ফজলুল হক নয়ন জানান, তার পৈতৃক ৪০ শতক ফসলি জমি ছিল। বালু তোলার কারণে অব্যাহত ভাঙনে সব বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এখন মনে হয় ২৪-২৫ শতক জায়গা আছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দিয়েছিলেন। তখন কিছুদিন অভিযানও চালানো হয়েছিল। এরপর বালুখেকোরা আবার পুরোদমে শুরু করলেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
একই চিত্র উত্তর দৌলতপুর এলাকায়। এখানে চারটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তোলায় কবরস্থান ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। কিছুদিনের মধ্যে ভেঙে পড়তে পারে বসতঘর। এনিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। মোহাম্মদ মাসুদ নামে এক বাসিন্দা বলেন, ‘বালু তোলার কারণে নদীভাঙনে বড় ভাই, ভাতিজি, চাচাতো ভাইয়ের কবরস্থান ভেঙে গেছে। অনেকবার নিষেধ করা হলেও তারা কেউ শোনেন না। যারা বালু তুলছেন তারা প্রভাবশালী। যেভাবে বালু তোলা হচ্ছে তাতে বাড়িঘরও ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
এর অদূরে নাপিতকোনা ও তৎসংলগ্ন ঘোনা এলাকায় চারটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে নাপিতকোনায় ভাঙন বেড়িবাঁধ পর্যন্ত পৌঁছেছে। ঘোনা এলাকায় মেহগনিগাছের বাগানের একাংশ ভেঙে পড়েছে।
বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী, পাম্প বা ড্রেজিং বা অন্য কোনো মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। এ ছাড়া সেতু, কালভার্ট, বাঁধ, সড়ক-মহাসড়ক, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ।
জানতে চাইলে ফুলগাজী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম আল-আমিন বলেন, ‘বালুমহালের ইজারা থাকলেও কিছু শর্ত থাকে। বালু তোলার ক্ষেত্রে কোনো ক্ষতি হচ্ছে কি না, সেগুলো দেখা হবে।’
জেলা প্রশাসক মুছাম্মৎ শাহীনা আক্তার বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে। বালু তোলায় কোনো ক্ষতি হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।