নওগাঁ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৩ ১৬:১৮ পিএম
আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৩ ১৮:৫৭ পিএম
আসামি কাজল মালিকে কারাগারে নেওয়ারে সময়। প্রবা ফটো
নওগাঁয় মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী ও মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের পৃথক মামলায় দুই জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে দুই আসামিকে ১ লাখ টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা না দিলে তাদের আরও ছয় মাস কারাগারে থাকতে হবে।
সোমবার (২৮ আগস্ট) বেলা ১১টায় নওগাঁর নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মেহেদী হাসান তালুকদার এ রায় দেন।
সাজা পাওয়া দুই আসামি হলেন- জেলার পোরশা উপজেলার গোবরাকুরি গ্রামের মো. হ্যাপী ও পত্নীতলা উপজেলার কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা শ্রী কাজল মালি। রায়ের সময় কাজল মালি উপস্থিত থাকলেও হ্যাপি উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ারা জারি করা হয়।
দুই মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মকবুল হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নথির বরাতে তিনি জানান, পত্নীতলা উপজেলার কাশিপুর গ্রামের প্রতিবন্ধী নারী ২০২০ সালের ২৭ মার্চ বেলা আড়াইটার সময় তার বাড়ির পিছনে শুকনো পাতা ঝাড়ু দেওয়ার সময় কাজল মালি মুখে গামছা দিয়ে তাকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। পরে ১ এপ্রিল প্রতিবন্ধী ওই নারীর স্বামী পত্নীতলা থানায় একটি মামলা করেন। স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ বিচারক যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
অন্যদিকে ২০১৪ সালের ১০ জানুয়ারি পোরশা উপজেলার এক মাদরাসা ছাত্রী তার নানীর বাড়ির যাওয়ার পথে তাকে আম বাগানে নিয়ে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন ওই ছাত্রীর নানাকে খবর দিলে তিনি এসে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা করান। পরবর্তীতে ছাত্রীর নানা পোরশা থানায় অভিযোগ করলে তদন্ত কর্মকর্তা পোরশা থানার গোবরাকুড়ি এলাকার হ্যাপির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। এরপর চলতি মাসের ২৩ তারিখ পর্যন্ত ১১ জন সাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ তার বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। তবে রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ারা জারি করা হয়।