চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৩ ২১:৫৬ পিএম
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম। ফাইল ছবি
টেস্টে অকৃতকার্য হওয়ায় ফরম পূরণের সুযোগ না পেয়ে চট্টগ্রাম বোর্ডের ২৭ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বোর্ডে কলেজ পরিবর্তনের আবেদন করে। পরে তারা শিক্ষা বোর্ডের অনুকূলে পরীক্ষার ফরম পূরণের ফিও জমা দেয়। কিন্তু বোর্ড থেকে তাদের প্রবেশপত্র দেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আদালতের রায়ের পরও বোর্ডের অসহযোগিতায় তাদের পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বন্যার কারণে স্থগিত হওয়া চট্টগ্রাম বোর্ডে আজ শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা।
বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী এসব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায় না বলে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করি। পরে আদালত ৮ সপ্তাহের স্থিতাবস্থা দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় কাজেম আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বেপজা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সেন্ট প্লাসিড স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ ৫টি কলেজের ২৭ শিক্ষার্থীকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ফরম পূরণের সুযোগ দেয়নি সংশ্লিষ্ট কলেজগুলো। এরপর ওই শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা কলেজ পরিবর্তন করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষা বোর্ড বরাবর আবেদন করেন। কিন্তু বোর্ড তাদের আবেদন গ্রহণ না করায় শিক্ষার্থীরা হাইকোর্ট ডিভিশনে দুটি রিট পিটিশন দাখিল করে। এর মধ্যে একটি রিট পিটিশনের আদেশে উচ্চ আদালত গত ৭ আগস্ট শিক্ষার্থীদের কলেজ পরিবর্তনের আবেদন গ্রহণ করে ১৮ জন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর অধ্যক্ষকে আদেশ দেন। ৮ আগস্ট আরও একটি আদেশে ৯ শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ দিতে আদেশ দেন আদালত। এরপর ওই আদেশের কপি নিয়ে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডে গেলেও তাদের কলেজ পরিবর্তনের আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। পরে সেন্ট প্লাসিড স্কুলের হয়ে শিক্ষা বোর্ড শিক্ষার্থীদের রিট পিটিশনের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করা হয়। শিক্ষা বোর্ডের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২১ আগস্ট আদালত ৮ সপ্তাহের জন্য স্থিতাবস্থা দেন।
বিএফ শাহীন কলেজ থেকে বিজ্ঞান কলেজে ট্রান্সফার হতে চাওয়া ফয়েজ উল্লাহর বাবা ওবায়দুল্লাহ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, উচ্চ আদালত থেকে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণে শিক্ষা বোর্ডকে নির্দেশনা দিয়ে আদেশ দেওয়ার পর আমরা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শকের সঙ্গে কলেজ পরিবর্তনের জন্য ব্যবস্থা নিতে কয়েক দফায় যোগাযোগ করেছি। তিনি এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এখন উনারা উচ্চ আদালতের স্টে অর্ডারের অজুহাত দেখাচ্ছেন।
তিনি বলেন, গত ৭ আগস্ট উচ্চ আদালত আমাদের পক্ষে রায় দেন। এরপর বোর্ডের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২১ আগস্ট আদালত ৮ সপ্তাহের জন্য স্টে অর্ডার দেন। এখন আমার প্রশ্ন হলো, পরীক্ষা ১৭ আগস্ট শুরু হলে বোর্ড কি আমার সন্তানকে পরীক্ষার সুযোগ না দিয়ে থাকতে পারত?
এ সম্পর্কে জানতে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মুস্তফা কামরুল আখতারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ধরেননি। কলেজ পরিদর্শক জাহেদুল হক বলেন, যারা ফরম পূরণের উপযুক্ত, ১৭ আগস্টের পরও তাদের অনেকে ফরম পূরণ করেছে। তারা আমাদের এখানে যে আবেদনগুলো করেছে, সেখানে যেই কলেজ ছেড়ে আসতে চায়, ওই কলেজের অধ্যক্ষের স্বাক্ষর ছিল না। তারা কিছু ডকুমেন্টস তৈরি করে উচ্চ আদালত থেকে রায় নিয়েছে। যেহেতু এটি উচ্চ আদালতের রায়, সেজন্য আমরা আমাদের আইনজীবীকে জানিয়েছি। এরপর আমরা এসব শিক্ষার্থী নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায় না বলে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করি। আপিল আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ৮ সপ্তাহের স্থিতাবস্থা দিয়েছেন।
৭ আগস্ট দেওয়া উচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আদালত স্থিতাবস্থা দিয়েছেন ২১ আগস্ট। সারা দেশের সঙ্গে ১৭ আগস্ট পরীক্ষা শুরু হলে তখন তো আদালতের আদেশে এই শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র ইস্যু করতে বাধ্য থাকত, এমন প্রশ্নে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।