× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জাতীয় শোক দিবসের ব্যাজ খুলে ফেলায় শিক্ষক বরখাস্ত

বরিশাল অফিস

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৩ ২২:৪৪ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় শোক দিবসের কালো ব্যাজ খুলে ফেলে দেওয়ায় বরিশালের বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের এক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শিক্ষকের নাম এসএম এজাজ হাসান। তিনি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। গত মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় তাকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানায় কলেজ কর্তৃপক্ষ। এসএম এজাজ হাসান ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এসএম খলিলুর রহমান স্বাক্ষরিত আদেশে উল্লেখ করা হয়, প্রথমত শোক দিবস চলাকালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এসএম এজাজ হাসান কলেজ চত্বরে উপস্থিত থাকলেও জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন না। দ্বিতীয়ত শোক দিবসে ওই শিক্ষককে দেওয়া কালো ব্যাজ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সামনে খুলে নিন্দার ছলে ছুড়ে ফেলেন। যা অন্যায়, নিন্দনীয় এবং রাষ্ট্রবিরোধী বটে। এই দুই কারণে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হলো। 

অধ্যক্ষ এসএম খলিলুর রহমান বলেন, ‘১৫ আগস্টের অনুষ্ঠান শেষে যাওয়ার পথে ওই শিক্ষক তার পরিহিত কালো ব্যাজ নাকি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সামনে খুলে ছুড়ে ফেলেন। সেই ব্যাজ নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমার দপ্তরে এসেছে। আমি নেতাদের জানাই গভর্নিং বডির কমিটির সঙ্গে আলাপ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অধ্যক্ষ হিসেবে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করি। কিন্তু দেখলাম তাদের (আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের) দ্বারা কলেজের একটা ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনার পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছিল। একপর্যায়ে আমি সভাপতির সঙ্গে মোবাইলে আলাপ করায় তিনি ওই শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার কথা জানান।’ 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কলেজে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই সহকারী অধ্যাপক এসএম এজাজ হাসান কলেজ থেকে বের হয়ে যান। এ সময় কলেজ থেকে দেওয়া শোক দিবসের ব্যাজটি খুলে ড্রেনে ফেলে দেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ফোনে সেই দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করেন। 

পরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় নেতারা কলেজ অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে এ ঘটনার শাস্তি দাবি করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই দিন সন্ধ্যায় অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক এসএম এজাজ হাসানকে কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়। 

অভিযুক্ত এসএম এজাজ হাসান বলেন, ‘ওই কলেজে আমি দীর্ঘ ২২ বছর শিক্ষকতা করছি। রাজনৈতিক কোনো নেতার প্রতি আমার ভিন্নমত থাকলে এত বছরে নিশ্চয়ই তা অন্তত শিক্ষার্থীদের দ্বারা হলেও প্রকাশ্যে আসত। বাস্তবতায় কলেজে আমি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। এমনকি ১৫ আগস্টের অনুষ্ঠানে সভামঞ্চ, ব্যানার সবকিছু আমি নিজ হাতে প্রস্তুত করেছি। রাজনীতি যেভাবেই করুন, কাউকে হত্যা করা আমি মেনে নিতে পারি না। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করাও সঠিক কোনো কাজ ছিল না। সুতরাং তার স্মরণের অনুষ্ঠানে আমার বিরোধিতা কেন থাকবে? আমি তো রাষ্ট্রের চাকরি করি। রাষ্ট্র যে আয়োজন করেছে সেখানে আমার অংশগ্রহণ করা দায়িত্ব।’

তিনি বলেন, ‘দুপুর ১২টায় শোক দিবসের আয়োজন শেষ হয়। এরপর একটি সভা শেষে করে আমি কলেজ থেকে বেলা ৩টায় বের হই। আমার ওপেন হার্ট সার্জারি করা। হয়তো বুক চুলকাতে গিয়ে ব্যাজটি পড়ে যায়। গেট থেকে বের হয়ে যখন দেখি বুকে ব্যাজ নেই, তখন অতিরিক্ত একটি ব্যাজ আমার কাছে ছিল, সেটি পরে নিই। অথচ সন্ধ্যায় আমাকে নোটিস দেওয়া হলো বরখাস্তের। আমি বলব বিনা দোষে আমাকে এই হয়রানি করা হচ্ছে।’

কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোস্তফা কামাল চিশতি বলেন, ‘কোনো শিক্ষককে বরখাস্ত করা বা কলেজের কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে সভা করেই করার কথা। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো সভা হয়নি। কলেজ অধ্যক্ষ এবং সভাপতি দুজনে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সুতরাং শিক্ষক বরখাস্তের বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।’

কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য শাহরিয়ার আহমেদ শিল্পী বলেন, ‘ঘটনাস্থলে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদকসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা সকলেই বলেছেন ওই শিক্ষক যেভাবে কালো ব্যাজ খুলে ফেলেছেন তা মেনে নেওয়ার মতো না। নেতাকর্মীদের দাবির মুখেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ওই শিক্ষক বিএনপি নেতা। কয়েক দিন আগেও তিনি সরকারবিরোধী কাজে জড়িত থেকে কারাগারে গেছেন। তিনি আওয়ামী লীগের এসব বিষয় সহ্য করতে পারেন না।’

এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সিরাজ উদ্দিন আহমেদকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা