গোপালগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৩ ১৬:১৭ পিএম
আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৩ ১৯:২৪ পিএম
শ্রুতি লেখক দিয়ে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে দৃষ্টিহীন অরিত্র। প্রবা ফটো
অদম্য
ইচ্ছা শক্তি ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে শ্রুতি লেখকের সাহায্যে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে
দৃষ্টিহীন মেধাবী শিক্ষার্থী অরিত্র ইশতিয়াক আলম। পরীক্ষা কেন্দ্রে অরিত্র মুখে বলে
দিচ্ছে আর তার হয়ে শ্রুতি লেখক দশম শ্রেণির ছাত্রী সুচিত্রা বিশ্বাস লিখে দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার
(১৭ আগস্ট) সকালে গোপালগঞ্জের সরকারি সাবের মিয়া জসিমুদ্দীন এসজে উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র
থেকে পরীক্ষা দিচ্ছে অরিত্র। সে সরকারি মুকসুদপুর কলেজের মানবিক বিভাগের ছাত্র। অরিত্র
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের ফিরোজ আলম মৃধার ছেলে।
অরিত্রর
বাবা ফিরোজ আলম বলেন, ‘আমার ছেলে জন্ম থেকে চোখে একটু
কম দেখে। প্রথমে তার বাম চোখে সমস্যা ছিল। পরে ভারতে তার বাম চোখ অপারেশন করানো হয়।
অফারেশনের পর থেকে তার ডানও চোখে সমস্যা দেখা দেয়। বর্তমানে তাকে থাইল্যান্ডে চিকিৎসা
দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি
বলেন, ‘আমার ছেলের এতো সমস্যা থাকার
পরও সে তার অদম্য ইচ্ছা শক্তি আর পড়াশোনার প্রতি ভালোবাসা থেকেই এবারের এইচএসসি পরীক্ষায়
অংশগ্রহণ করেছে। অরিত্র চোখে দেখতে পায় না তাই একজন শ্রুতি লেখক দিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে।
আমি আমার সন্তানের জন্য সবার নিকট দোয়া চাই।’
সরকারি
এসজে উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সুপার প্রভাষক কবির আহম্মেদ বলেন, ‘অরিত্র মেধাবী ছাত্র। কলেজে
বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সে অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন সময় পুরস্কার পেয়েছে। অরিত্র তার অন্ধত্বকে
জয় করে শ্রুতি লেখক দিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। আশা করি সে ভালো ফল করবে।’
মুকসুদপুর
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাদৎ আলী মোল্যা জানান, অরিত্র শিক্ষা বোর্ড থেকে
পাশ নিয়ে শ্রুতি লেখক দিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। তার এই ইচ্ছা শক্তিকে আমরা সাধুবাদ জানাই।
আশা করি সে ভালো ফল করবে।
তিনি আরও জানান, এবারের
অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষা সরকারি মুকসুদপুর কলেজ ও সরকারি এসজে উচ্চ বিদ্যালয়ের দুটি
কেন্দ্রে মোট ১ হাজার ৯৬৬ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে।