দুমকির ত্রাণ ও দুর্যোগ বিভাগ
আঞ্চলিক প্রতিবেদক, পটুয়াখালী
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৩ ১৬:১৪ পিএম
আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৩ ১৬:২৮ পিএম
ফটো সংগৃহীত
পটুয়াখালীর দুমকিতে ত্রাণ ও দুর্যোগ বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পের বিলের প্রায় কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, কাজ না করে ভুয়া বিলের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন এবং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যদের কাছ থেকে বিলে সই করিয়ে নিয়ে সেই টাকা তাদের অ্যাকাউন্টে না দিয়ে লোপাট করা হয়েছে। অন্তত ২৫ থেকে ৩০টি প্রকল্প বিলের কোটি টাকা নিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন অফিস সহায়ক জুয়েল হাসান।
গত ১০ জুলাই উপজেলার ৩ নম্বর মুরাদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ মুরাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহজাহান খানের লিখিত অভিযোগে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিভাগের এমন অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রকাশ পায়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত পিআইও রাজিব বিশ্বাস তার বিশ্বস্ত অফিস সহায়ক জুয়েল হাসানকে দিয়ে ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের টিআর, কাবিখা (সাধারণ ও নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক) ২য় পর্যায়ের সকল প্রকল্পের বিলের টাকা ইজিপিপি নন-ওয়েজ, ইজিপিপি প্রশাসনিক বিলের টাকা, ট্যাগ কর্মকর্তাদের সম্মানীসহ অফিসের অন্যান্য খাত এবং বিভিন্নজনকে সুবিধা দেওয়ার আশ্বাসে প্রায় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, পিআইও রাজিব বিশ্বাস তার দপ্তরের অন্য কোনো কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে দায়িত্ব দেন না। এ ঘটনা থেকে রেহাই পেতে সুকৌশলে অফিস সহায়ক জুয়েলকে পলাতক দেখাচ্ছেন।
মুরাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান মনোয়ার বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে সিপিসির তিনটি প্রকল্পের মধ্যে দুটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পিআইও রাজিব বিশ্বাসের নির্দেশে জুয়েল আমার কাছ থেকে একটি ভুয়া বিলসহ ৩টি বিলে সই করিয়ে নেন। সে সময় অ্যাকাউন্ট নম্বর নিলেও অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা বা চেক দেওয়া হয়নি। পরে একটি কাজের ৫০ হাজার ও অপর একটি কাজের ৪০ হাজার টাকা বিভিন্ন মাধ্যমে আমার কাছে পাঠানো হয়। এখনও আমার ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। এ ছাড়া ভুয়া বিলে ৯০ হাজার টাকা তুলে নিয়েছেন তারা।’
৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জহিরুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, ‘আমার একটি সিপিসি প্রকল্পের ১ লাখ টাকার বিল থেকে চেয়ারম্যানের মারফত ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এখনও ৪০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। পিআইও রাজিব বিশ্বাস আমাকে বিল কাগজে সই দিতে বলায় সই করেছি। এখন শুনি তারা বিল তুলে নিয়ে গেছে।’
মুয়াদিয়া ইউপির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সিকদার বলেন, ‘পিআইও রাজিব এবং জুয়েল সিপিসি প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন। নিয়মবহির্ভূতভাবে তারা এ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ইউএনও মহোদয় বিল অনুমোদন দিয়েছেন। সেই বিল সিপিসিদের অ্যাকাউন্টে না দিযে কীভাবে তুলে নেওয়া হলো। আমরা এ বিষয়ে আদালতে মামলা করব।’
এ বিষয়ে রাজিব বিশ্বাসের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি তা ধরেননি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান বলেন, বিষয়টি অফিসিয়ালভাবে সমাধান হয়েছে। এ বিষয়ে ফোনে এর বেশি কিছু বলা যাবে না। জেলা প্রশাসক মো. নূর কুতুবুল আলম বলেন, ‘বিষয়টি আমি আগে জানতাম না। গত মাসে যোগদান করেছি। বিষয়টি নোট রেখেছি। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।’
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সুমন দেবনাথ বলেন, ‘মহাপরিচালকের বরাবরে একটি অভিযোগ পেয়েছি। ফোনে তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি ব্যবস্থা নেবেন।’