কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৩ ১৪:৩২ পিএম
আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৩ ১৪:৫৩ পিএম
কাপ্তাই হ্রদে জেটিঘাট এলাকায় কচুরিপানার জট। প্রবা ফটো
টানা বর্ষণের ফলে উজানের পাহাড়ী ঢলে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে কচুরিপানার জট বেঁধেছে। বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) সকালে কাপ্তাই হ্রদের আপষ্ট্রিম জেটিঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কচুরিপানায় ছেয়ে গেছে হ্রদের বিশাল অংশ। ফলে কাপ্তাই জেটিঘাট থেকে বিলাইছড়ি কিংবা রাঙামাটি পর্যন্ত নৌ চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে।
ইঞ্জিনচালিত বোটগুলো কচুরিপানার বিশাল জটে আটকা পড়ে বোটের পাখা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এতে এক প্রকার বাধ্য হয়ে নৌ চলাচল বন্ধ রাখতে হচ্ছে। অন্যদিকে নৌপথে চলাচলকারীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
কাপ্তাই জেটিঘাটের বোট চালক শফিকুল আহমেদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘কচুরিপানার বিশাল জট সৃষ্টি হওয়ায় কাপ্তাই-বিলাইছড়ি লাইনের নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। গত বুধবার একটি বোট জেটিঘাট থেকে বিলাইছড়ির উদ্দেশে রওনা হলেই মাঝ পথে কচুরিপানার যানজটে আটকে পড়ে। শেষ পর্যন্ত গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে না পাড়ার কারণে পেছনে ফিরতে হয়।’
এদিকে কাপ্তাই জেটিঘাটের আরেক বোট চালক সুমন দাশ বলেন, এক সপ্তাহ ধরে লাগাতার বৃষ্টির কারণে চারদিক থেকে ছুটে আস কচুরিপানা জট হয়েছে কাপ্তাই হ্রদে। হ্রদের বিভিন্ন এলাকা থেকে কচুরিপানা এসে জেটিঘাট ব্যবসায়ী কেন্দ্র, কার্গো, জেলেপাড়া, সোয়া মিলসহ বিভিন্ন এলাকায় জট সৃষ্টি করেছে। এতে নৌ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। নৌ-চলাচল করতে না পাড়ায় দুর্ভোগ পড়ছে সাধারণ মানুষ।
কাপ্তাই বোট মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহিন বুলবুল বলেন, বর্তমানে কচুরিপানার জটলাতে পড়ে গন্তব্যস্থানে পৌঁছাতে ৫ মিনিটের জায়গায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। এতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে বোট চালকদের আয়-রোজগার কমে গেছে।
এদিকে কাপ্তাই জেটিঘাটে অপেক্ষমান কয়েকজন যাত্রী জানান, কচুরিপানার জট লাগার ফলে ঠিকভাবে তারা চলাফেরা করতে পারছেন না। যতক্ষণ নৌ চলাচল স্বাভাবিক না হবে ততক্ষণ এই দুর্ভোগ পোহাতে হবে তাদের।
এ বিষয়ে ৪ নম্বর কাপ্তাই ইউপি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আবদুল লতিফ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘কচুরিপানার জটের কারণে স্থানীয়দের ক্ষতি হচ্ছে। ইতোমধ্যে একটি পরিবার হ্রদে আটকে পড়ায় বহু কষ্ট করে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি কচুরিপানা জট অপসারণের জন্য। পিডিবি কর্তৃপক্ষ কিছু কচুরিপানার জট অপসারণ করেছে বলে জেনেছি। সামনে আরও কিছু অপসারণ করা হবে।’