রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৩ ১৬:১৯ পিএম
আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৩ ১৬:৫৪ পিএম
রামেক হাসপাতালে মশারি টানিয়ে চিকিৎসাধীন এক ডেঙ্গু রোগী। প্রবা ফটো
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রতিদিন বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে জায়গা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোগীর চাপ থাকায় প্রতিনিয়ত ওয়ার্ড বৃদ্ধি করা হচ্ছে। নতুন করে আরও একটি ওয়ার্ড ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৯ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ডেঙ্গু রোগীতে পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় হাসপাতালের বারান্দায় বেড পেতে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিনিয়ত বেড সংখ্যা বৃদ্ধি করেও রোগীর চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ওয়ার্ডের সংশ্লিষ্ট নার্সরা।
হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে বেডের স্বল্পতার কথা স্বীকর করে মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক তানজিরুল বারি বলেন, ২৫, ৩০, ৩৯ ও ৪০সহ চারটি ওয়ার্ড ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তারপরেও রোগীর চাপ থাকায় প্রতিনিয়ত ওয়ার্ড বৃদ্ধি করা হচ্ছে। নতুন করে ৪১ নম্বর ওয়ার্ডটি ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। খারাপ অবস্থায় রোগী ভর্তির হার বেড়েছে। রোগীরা দেরি করে ডাক্তারের পরামর্শ নিচ্ছেন। এতে ঝুঁকি বাড়ছে। আরও রোগী বাড়তে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। আমাদের ওপর যথেষ্ট চাপ রয়েছে। বেডের পাশাপাশি চিকিৎসক স্বল্পতাও রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত দুজন মারা গেছেন। এদের মধ্যে একজন কৃষক ও অপরজন ১৮ বছরের কিশোর।
রামেক হাসপাতালে পরিচালক এফ এম এ শামীম আহমেদ বলেন, গত শনিবার ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ওই কৃষক প্রথমে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সোমবার তাকে রামেক হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। আর কিশোর সৈকত মঙ্গলবার রামেক হাসপাতালে ভর্তি হন এবং বুধবার সকালে মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনিও ডেঙ্গু পজেটিভ ছিলেন।
রামেক হাসপাতালের দেওয়া তথ্য মতে, হাসপাতালে বুধবার সকাল পর্যন্ত ৮০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। এদের মধ্যে রাজশাহী জেলার স্থানীয় রোগীর সংখ্যা ৪০ জন। এখন পর্যন্ত তিনজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থা মারা গেছেন।