× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দেড়শ টাকার নার্সারি থেকে কোটিপতি

আব্দুর রহমান মিল্টন, ঝিনাইদহ

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৩ ০৯:১৬ এএম

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৩ ১৩:১৬ পিএম

দেশের সীমান্ত এলাকা মহেশপুরের চাপাতলা গ্রামের অদম্য কৃষক রফিকুল ইসলামের কমলা বাগান। প্রবা ফটো

দেশের সীমান্ত এলাকা মহেশপুরের চাপাতলা গ্রামের অদম্য কৃষক রফিকুল ইসলামের কমলা বাগান। প্রবা ফটো

এক সময় নুন আনতে পান্তা ফুরাতো। ছিল না কোনো জমাজমি। তবে দরিদ্র কৃষক রফিকুল ইসলাম ছিলেন অদম্য। বাবার কাছ থেকে মাত্র দেড়শ টাকা নিয়ে শুরু করেন নার্সারি ব্যবসা। এখন তার ১০০ বিঘা জমিতে দার্জেলিং কমলা, মাল্টা, আম, পেয়ারাসহ রয়েছে মিশ্র ফল বাগান। প্রতি মৌসুমে বিক্রি করছেন ৩০ টনের বেশি দার্জেলিং কমলা, আরও ৩০-৩৫ টন মাল্টাসহ অন্যান্য ফল। টাকার হিসাবে অংকটা প্রতি মৌসুমে ৭০ লাখের ওপরে। লাখ লাখ টাকার চারাও বিক্রি করেন। 

জানা গেছে, তার বাগানেই প্রতিদিন কাজ করছেন অর্ধশতাধিক শ্রমিক। ভারতের সীমান্তবর্তী জেলা ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সমতল ভূমিতে দার্জেলিং কমলার চাষ করে সাড়া ফেলে দেন স্বরুপপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্তপল্লী চাপাতলা গ্রামের আইন উদ্দিনের ছেলে রফিক। সেই চারা এখন যাচ্ছে দেশজুড়ে। কৃষক পর্যায়ে এসব ফলের উচ্চ মান সম্পন্ন বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ, বিতরণ ও নার্সারি স্থাপনের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়নে ভূমিকা রাখায় পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার।

অভাব-অনটনে এসএসসি পাসের পর লেখাপড়া আর হয়ে ওঠেনি রফিকের। ২০০১ সালে বাবার কাছ থেকে মাত্র দেড়শ টাকা নিয়ে মেহগনি গাছের কুঁড়িয়ে আনা ফল থেকে বীজ সংগ্রহ করে লাগাতেন, চারা বিক্রি করতেন। এভাবে আমের চারাসহ কিছু চারা বিক্রি করে ছোট্ট নার্সারিতে কোনো রকম চলত তার সংসার। রফিকুলের টানাপোড়েন যাচ্ছিলই না, তবে দমে যাননি।

রফিকুল জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে ভালো মানের ফল বীজ-চারা খুঁজতে খুঁজতে ২০১৫ সালে এক বন্ধুর সাথে চলে যান ভারতের দার্জেলিং। ২০০ দার্জেলিং কমলার চারা এনে রোপণ করেন, ৩ বছরের মাথায় ফল ধরতে শুরু করে, তারপর আর ঘুরে তাকাতে হয়নি। সেই বছরই ১৫ লাখ টাকার কমলা বিক্রি করেন। বিক্রি করতে থাকেন চারাও। সমতল ভূমিতে দার্জেলিং কমলার চাষ শুরু করে দেশজুড়ে সাড়া ফেলে দেন। তার কমলা খোদ দার্জেলিং কমলার চেয়েও স্বুসাদু। এখন প্রতি মৌসুমে তার বাগান থেকে ৩০ টন কমলা উৎপাদন হচ্ছে, আর চারা যাচ্ছে সারা দেশে। উত্তরাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা সিলেট-চট্টগ্রামসহ সারা দেশে যাচ্ছে তার কমলার চারা। আগামী ৩-৫ বছরের মধ্যে কমলা বিদেশে রপ্তানিও করা যাবে বলেও জানান তিনি।

নতুন চাষী বা উদ্যোক্তাদের প্রতি রফিকুল আহ্বান, শুধুমাত্র এক ধরনের ফসল বা ফল চাষ করা যাবে না, এতে ঝুঁকি থাকে। তাই মিশ্রবাগান করলে কোনো একটি ফল-ফসলে লাভবান হওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, কমলার পাশাপাশি মিশ্রবাগান থেকে প্রতি মৌসুমে কমপক্ষে ৫০ টন মালটা বিক্রি করে থাকেন। লাখ লাখ টাকার চারাও বিক্রি করছেন প্রতিবছর। এই কৃষি উদ্যোক্তা বাংলা ১৪২৬ সালে পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক, গত বছর তার হাতে পদক তুলে দেওয়া হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রফিকুলের বাগানে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে সুস্বাদু দার্জেলিং কমলা। গাছে গাছে ধরে থাকা সবুজ রংয়ের কমলায় হলুদ রঙ চড়বে কয়েক মাসের মধ্যেই। চলতি মৌসুমের দার্জেলিং কমলা অক্টোবর-নভেম্বরে বিক্রি করা যাবে। ৩৫ একর মিশ্র ফলবাগানের অর্ধেকই রয়েছে দার্জেলিং কমলা। পাশাপাশি মাল্টা, আম, পেয়ারাসহ অন্যান্য ফলের বাগান ও বিষমুক্ত সবজি বাগান রয়েছে তার। এলাকাবাসী খুশী রফিকুলের এমন চাষ পদ্ধতি দেখে ।

রফিকুলের বাগানে ৭ বছর ধরে কাজ করছেন আশরাফ আলী বিশ্বাস। তিনি জানান, কমলাসহ মিশ্র ফলবাগানে কাজ করেই চলছে তার সংসার। চাপাতলা গ্রামের কৃষক খোরশেদ আলী জানান, প্রতিদিন সকালে এসে বাগানে নিড়ানি, চারা তোলাসহ বিভিন্ন কাজ করেন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নতুন নতুন উদ্যোক্তারা আসানে দেশের সীমান্তবর্তী এই মিশ্র ফলবাগানে। তারা নানা জাতের চারা সংগ্রহ করে ট্রাক বা বিভিন্ন বাহনে করে নিয়ে যান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আজগর আলী জানান, কমলাচাষি রফিকুলের দেখাদেখি জেলায় এখন ৩৫০ হেক্টর জমিতে ৬ শতাধিক কমলা বাগান গড়ে উঠেছে। আগামী ৪-৫ বছরের মধ্যে কমলা রপ্তানি সম্ভব বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা