× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রবীন্দ্রপ্রয়াণ দিবস

‘তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি’

প্রবা প্রতিবেদক, ঢাকা ও কুষ্টিয়া

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৩ ১০:৫৭ এএম

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৩ ১৫:৪৩ পিএম

কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহৃত সামগ্রী। প্রবা ফটো

কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহৃত সামগ্রী। প্রবা ফটো

‘তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি/বিচিত্র ছলনা-জালে/হে ছলনাময়ী/মিথ্যা বিশ্বাসের ফাঁদ পেতেছ নিপুণ হাতে/সরল জীবনে’। মৃত্যুর দিন সাতেক আগে মুখে মুখে নির্দেশনা দিয়ে যে শেষ কবিতা তৈরি করেছিলেন, তাতে যেন নিজের জীবনরেখাই চিত্রিত করে গেছেন বাঙালির বিস্ময় প্রতিভা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

৩০ জুলাই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়িতে কবির শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়। যদিও তা নিষ্ফল। অবস্থা দ্রুত খারাপের দিকে যাচ্ছে। জ্ঞান হারালেন। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন রাখি পূর্ণিমার দিন মধ্যাহ্নে, বাংলা ১৩৪৮ সালের ২২শে শ্রাবণ, ইংরেজি ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট। কবি চলে গেলেন অমৃতলোকে।

আজ ২২শে শ্রাবণ, বিশ্বকবির প্রয়াণ দিবস। বিশ্বব্যাপী রবীন্দ্রভক্তদের কাছে একটি শূন্য হবার দিন। রবীন্দ্র কাব্য-সাহিত্যের বিশাল একটি অংশে যে পরমার্থের সন্ধান করেছিলেন, সেই পরমার্থের সঙ্গে তিনি লীন হয়েছিলেন এই দিনে। আজ রবীন্দ্রপ্রেমীদের চোখে দুকূল ছাপিয়ে শ্রাবণের বর্ষা নামবার দিন।

বাঙালির সাহিত্য-সংস্কৃতির বুনিয়াদ গড়ে উঠেছে বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাত ধরেই। বহু প্রতিভার এক আপন সত্তার অধিকারী এই ব্যক্তিত্ব তার প্রতিভার আলোয় উদ্ভাসিত করে বাংলা সাহিত্যকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়ে গেছেন। প্রথম বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছিলেন বিশ্বদরবারে। 

কবিগুরুর প্রকাশিত মৌলিক কাব্যগ্রন্থ ৫২টি, উপন্যাস ১৩টি, ছোটগল্পের বই ৯৫টি, প্রবন্ধ ও গদ্যগ্রন্থ ৩৬টি, নাটকের বই ৩৮টি। কবির মৃত্যুর পর ৩৬ খণ্ডে ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া ১৯ খণ্ডের রয়েছে ‘রবীন্দ্র চিঠিপত্র।’ কবির চিত্রকর্মের সংখ্যা আড়াই হাজারের মতো। তিনি ১৯২৮ থেকে ১৯৩৯ পর্যন্ত এসব চিত্রকর্ম সৃষ্টি করেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৭৪টি চিত্রকর্ম শান্তিনিকেতনের রবীন্দ্রভবনে সংরক্ষিত রয়েছে।

উপন্যাস, নাটক, সংগীত, প্রবন্ধ, চিত্রকলা বা দর্শন- সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই, যেখানে কবিগুরুর বিচরণ ছিল না। ১৮৭৪ সালে ‘তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা’য় তার প্রথম লেখা কবিতা ‘অভিলাষ’ প্রকাশিত হয়। ১৯১০ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘গীতাঞ্জলি’। এ কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

১২৬৮ সনের ২৫ বৈশাখ (ইংরেজিতে ১৮৬১ সালের ৭ মে) পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মা সারদাসুন্দরী দেবী। 

রবীন্দ্রনাথ পৃথিবীর একমাত্র কবি, যার লেখা গান বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের জাতীয় সংগীত। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কার জাতীয় সংগীতও রচিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথের গানের ছায়া অবলম্বনে। 

রবীন্দ্রপ্রয়াণ দিবসে উপলক্ষে আজ রবিবার দেশের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন নানামাত্রিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ছায়ানটের আয়োজনে নিজস্ব মিলনায়তনে সন্ধ্যা ৭টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শিল্পের আলোয় শ্রদ্ধাঞ্জলি ‘রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্গবন্ধু’ আয়োজন করেছে শিল্পকলা একাডেমি। বাংলাদেশ রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থার দুই দিনের স্মরণানুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে গতকাল।

এবারও রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণ দিবসে নীরব কুঠিবাড়ি

প্রতিবছরের মতো এবারও বিশ্বকবির প্রয়াণ দিবসে কবির স্মৃতিধন্য কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে একবেলার আলোচনা সভা ছাড়া তেমন কোনো আয়োজন থাকছে না। এবারও নীরবে পালিত হবে সেখানে এই বিশেষ দিবসটি। এতে মর্মাহত কবিভক্ত ও রবীন্দ্রগবেষকরা। তাই বেশ কয়েক বছর ধরেই কবির মহাপ্রয়াণ দিবসও জাতীয়ভাবে পালনের দাবি উঠেছে। 

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতির সঙ্গে মিশে আছে শিলাইদহ কুঠিবাড়ি। কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় পদ্মা নদীঘেঁষে এই ঐতিহাসিক স্থানটি স্বগর্বে দাঁড়িয়ে আছে। জেলা শহর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে এটি অবস্থিত। স্থানটির আয়তন প্রায় ১১ একরজুড়ে। গ্রামীণ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এই পর্যটনস্থল দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজারো দর্শনার্থীর আগমনে দিনভর মুখর থাকে। পদ্মা তীরের ছায়াশীতল নিরিবিলি পরিবেশের কারণেই বিশ্বকবি বারবার এখানে ফিরে এসেছেন। 

এখানে বসেই বিশ্বকবি রচনা করেছেন কালজয়ী কাব্যগ্রন্থ, ছোটগল্প, নাটক ও উপন্যাস। যে গীতাঞ্জলি কাব্য রচনা করে কবি নোবেল জয় করেছিলেনÑ সেই কাব্যের অনেকটাই তিনি রচনা করেছিলেন শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে বসে। 

কুঠিবাড়ির কাস্টোডিয়ান আল-আমিন বলেন, ‘আগস্ট শোকের মাস। আপনারা জানেন এই মাসে আমরা জাতির পিতা ও বিশ্বকবি দুজনকেই হারিয়েছি। কুমারখালী উপজেলা প্রশাসন কবিগুরুর প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত পরিসরে শনিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুঠিবাড়িতে ২৫শে বৈশাখ কবির জন্মজয়ন্তী বিশেষ আয়োজনে পালন করা হয়। ওইদিন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও দর্শনার্থীদের পদভারে মুখর থাকে কুঠিবাড়ির আঙিনা। অথচ মহাপ্রয়াণ দিবসে তেমন কোনো আয়োজন না থাকায় এ নিয়ে চরম হতাশা ব্যক্ত করেছেন কবিভক্ত ও কুঠিবাড়িতে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীরা।

প্রায় ২২ বছর ধরে কুঠিবাড়ির স্মৃতিবিজড়িত বকুলতলায় সংগীত পরিবেশন করছেন শিল্পী রানু সরকার। ২৫শে বৈশাখ কবিগুরুর জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে তার দল নিয়ে তিনি মঞ্চে নিয়মিত সংগীত পরিবেশন করেন। তবে ২২শে শ্রাবণ কবির প্রয়াণ দিবসে তেমন আয়োজন না থাকায় তার ক্ষোভ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রয়াণ দিবসে হাসি-আনন্দ না-ই করলাম, কিন্তু দিনটা সরকারিভাবে পালিত হলে অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করত।’ 

রাজশাহী থেকে আসা দর্শনার্থী রাজিবুল ইসলাম জানান, শিলাইদহে বিশ্বকবির প্রয়াণ দিবস জাতীয়ভাবে পালন না হওয়া দুঃখজনক।

এ সময় আফরোজা পারভীন নামে আরেক দর্শনার্থী কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে জাতীয়ভাবে দিবসটি পালনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। 

কুঠিবাড়ি ঘুরে দেখা গেছে, কবিগুরুর ব্যবহৃত চেয়ার-টেবিলসহ নানা আসবাব ছাড়াও এখানে সংরক্ষিত আছে কবির অসংখ্য দুর্লভ স্থিরচিত্র। এখানে আছে যেমন কবিগুরুর নিজ হাতে লাগানো বকুলগাছ, তেমনি কুঠিবাড়ির সবকিছুর সঙ্গেই তিনি মিশে আছেন মনেপ্রাণে। তারপরও বিশ্বকবির মহাপ্রয়াণ দিবসটি কাটবে নীরবে, এটা কবিপ্রেমীদের কাছে বেদনাদায়ক। 

কবি ও গবেষক ইমাম মেহেদী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বর্তমান প্রজন্মের কাছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কতখানি প্রাসঙ্গিক, তা নির্ভর করবে রবীন্দ্রনাথকে ধারণ করার মধ্য দিয়ে। রবীন্দ্রনাথ সর্বজনীন। সুতরাং সংস্কৃতিচর্চা অব্যাহত রাখতে রবীন্দ্রনাথের জন্ম ও মৃত্যু দিবস জাতীয়ভাবে গুরুত্বসহকারে পালন করা উচিত। 

কুমারখালীর ইউএনও প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘জাতীয়ভাবে কেন কবিগুরুর প্রয়াণ দিবস পালিত হচ্ছে না, এই প্রশ্ন উচ্চপর্যায়ের। মাঠপর্যায় থেকে এটা বলা সম্ভব নয়। দাবির কথা আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি। জাতীয় পর্যায়ে দিনটি পালন না হওয়ার ব্যাপারে তারাই বলতে পারবেন। তবে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিনটি পালন করা হবে।’ 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা