× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আগরতলার বিষাক্ত পানিতে বিপর্যস্ত সীমান্তের ১৫ গ্রাম

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৩ ১৪:৪১ পিএম

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৩ ১৪:৪৮ পিএম

আগরতলার দূষিত পানি সীমান্তবর্তী কালন্দি খাল হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। সোমবার আখাউড়া স্থলবন্দর সংলগ্ন শূন্যরেখায়। প্রবা ফটো

আগরতলার দূষিত পানি সীমান্তবর্তী কালন্দি খাল হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। সোমবার আখাউড়া স্থলবন্দর সংলগ্ন শূন্যরেখায়। প্রবা ফটো

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা থেকে নেমে আসা শিল্পকারখানা, হাসপাতাল ও বসতবাড়ির বর্জ্য মিশ্রিত কালো পানিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলার ১৫ গ্রামের জনজীবন। 

কয়েক দশক ধরে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন খাল হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা এই পানির কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছেন এসব এলাকার হাজারো মানুষ। এ ছাড়াও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পাশাপাশি ১৫শ হেক্টর জমির সেচ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আর ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের বারবার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত মুক্তি মেলেনি দূষিত এই পানি থেকে। 

এদিকে সোমবার দুপুরে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম গবেষণাগারের উপপরিচালক মো. কামরুল হাসানের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল দূষিত কালো পানি পরিদর্শন, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং পর্যবেক্ষণ করেছে। এ সময় তারা পানির নমুনা সংগ্রহ করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন আগরতলা থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর সংলগ্ন কালন্দি খাল, কালিকাপুর গ্রামের ভিতর দিয়ে বয়ে চলা জাজি নদী, বাউতলা ও উমেদপুর গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া মরা গাং দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকছে দূষিত পানি। 

জানা যায়, আগরতলার ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতাল, ডাইং কারখানা, চামড়া কারখানা, মেলামাইন কারখানা ও বাসাবাড়ির স্যুয়ারেজ লাইনসহ বিভিন্ন বর্জ্যযুক্ত বিষাক্ত পানি কোনো প্রকার পরিশোধন ছাড়াই এসব খালে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। ইটিপি প্ল্যান্টের মাধ্যমে বিষাক্ত পানি পরিশোধন করে ছাড়ার কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেনি ত্রিপুরা রাজ্য সরকার। দূষিত পানি তিতাস নদীর সঙ্গে মিশে আখাউড়ার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যকে হুমকিতে ফেলেছ। এ ছাড়া কৃষিজমিতে এই পানি গিয়ে উর্বরাশক্তিও দিন দিন নষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ৬৫ বছরের বৃদ্ধ আব্দুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমাদের জন্মলগ্ন থেকে এই কালো পানি দেখে আসছি। দূষিত কালো পানির গন্ধে আমরা অতিষ্ঠ। এই পানি দিয়ে আমাদের চাষাবাদ করতে হয়। এতে করে অনেকেই নানা ধরনের রোগে ভুগছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মৃত্যুর পরও এই কালো বিষাক্ত পানি থেকে আমাদের মুক্তি মিলবে না মনে হয়।

দক্ষিণ ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম বলেন, বৃষ্টির মৌসুমে দুর্গন্ধযুক্ত এ কালো পানি ছড়িয়ে পড়ে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে। এতে চরম ভোগান্তি আর দুর্ভোগ বেড়ে যায় মানুষের। 

বিষাক্ত কালো পানির আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক  অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যবসায়ী নেতারা ও সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা অনেক বছর ধরে কালো পানির সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। 

প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকা পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম গবেষণাগারের উপপরিচালক মো. কামরুল হাসান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, জাজি নদী, কালন্দি খাল এবং মরা গাংসহ তিতাস নদীর সংযোগস্থল ঘুরে দেখেছি। নদী ও খালের পানি সংগ্রহ করেছি। জানতে চাইলে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অংগ্যজাই মারমা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। কিন্তু জেলা প্রশাসকও এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা