নাটোর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৩ ১৯:০৫ পিএম
আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৩ ১৯:২৩ পিএম
এমপির উপস্থিতিতে পৌর মেয়রের ওপর হামলার অভিযোগ। প্রবা ফটো
নাটোরের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের উপস্থিতিতে নলডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মনিরুজ্জামান মনিরের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নলডাঙ্গা পৌরসভার সামনে এ ঘটনা ঘটে। মনির পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য। তবে এমপি শিমুল দাবি করেছেন, সেখানে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নাটোর-২ (সদর ও নলডাঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম রবিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তার অনুসারীদের সঙ্গে গাড়িবহর নিয়ে নলডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। এ সময় শহীদ নাজমুল হক সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র মনিরুজ্জামানের ভাতিজা শাহরিয়ার ইশতিয়াক শিশির তার বন্ধু সেন্টুকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে একই পথে যাচ্ছিলেন। পরে অনুষ্ঠানস্থলের কাছাকাছি উভয় পক্ষের অনুসারীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। একপর্যায়ে শিশির ও তার বন্ধু সেন্টুকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করেন নলডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান। শাহরিয়ার সংসদ সদস্য শিমুলের প্রতিপক্ষ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
পৌর মেয়র মনিরুজ্জামান মনির জানান, সন্ধ্যার পর অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে সংসদ সদস্য শিমুলের সঙ্গে তিনি ও তার অনুসারীরা দেখা করার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশের উপস্থিতিতেই তৌহিদুর রহমান লিটন, কোয়েল ও জনিসহ শিমুলের অনুসারীরা লাঠিসোঁটা, হাঁসুয়া ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা করে।
মেয়র মনির বলেন, ‘কোয়েল হকিস্টিক দিয়ে আমার মাথায় আঘাতের চেষ্টা করে। অন্যরা সেটা ধরে ফেলায় অল্পের জন্য বেঁচে যাই আমি। কিন্তু আমাকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হয়েছেন আমার সঙ্গে থাকা আনোয়ার হোসেন ও খুরশেদ আলী।’
পুলিশের তৎপরতায় হামলার আধঘণ্টার মাথায় পরিস্থিতি শান্ত হলে আহতদের রাজশাহীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করার কথা জানান তাদের স্বজনরা।
মেয়র মনির আরও বলেন, ‘হামলার সময় সৈনিক লীগের নেতা আমিরুল ইসলাম জনি পিস্তল বের করে পুলিশের সামনেই আমাকে হুমকি দিচ্ছিলেন। অথচ আমার ভাতিজার ওপর হামলার ব্যাপারে আমি কেবল এমপির সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এমপি ও ওসির সামনে আমার ওপর হামলা হলো। ওসি পক্ষপাতিত্ব করে চুপচাপ থাকলেন। আমরা কার কাছে বিচার পাব।’
হামলার ঘটনার প্রতিবাদে মেয়রের সমর্থকরা সন্ধ্যার পর নলডাঙ্গা শহরে বিক্ষোভ-মিছিল করেন। এ সময় শহরে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এ বিষয়ে নাটোর-২ আসনের এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুল বলেন, ‘মেয়র মনিরের ভাতিজা বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিল এবং গাড়িবহরকে কোনো সাইড দিচ্ছিল না। পরে তৌহিদুর রহমান লিটনের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। এরপর বঙ্গমাতা-বঙ্গবন্ধু ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে চলে যাই। পরে মনির আমার সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে আসছিল। তখন আমি ও এহিয়া চৌধুরী তাকে ধমক দিয়ে সরিয়ে দিই। সে কারণে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
এদিকে হামলার ঘটনায় যাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে সেই তৌহিদুর রহমান লিটন বলেন, ‘শাহরিয়ার ও তার ক্যাডাররা সংসদ সদস্যের গাড়িবহরের সামনে বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। তাদের বাধা দিলে ধাক্কাধাক্কি হয়। কিন্তু আমার জানা ছিল না যে শাহরিয়ার মেয়রের ভাতিজা। মেয়রের ভাতিজা জানার পরে আমি মনিরের কাছে ক্ষমাও চেয়েছি। কিন্তু এরপরও মনির ও তার লোকজন পৌরসভার সামনে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান করছিল এমপির বহরে হামলা করার জন্য। খবর শুনে নাটোর থেকে ডিবি পুলিশের টিম সেখানে যায়। পরে এমপি ও আমরা ফেরার সময় মনির পথরোধ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা হয়। আমাদের হাতেও লাঠিসোঁটা ছিল। কিন্তু অন্য কোনো অস্ত্র ছিল না।’
সৈনিক লীগের নাটোর জেলা শাখার সভাপতি আমিরুল ইসলাম জনি তার কাছে অস্ত্র থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘মনির মিথ্যা অভিযোগ করছে।’
নলডাঙ্গা থানার ওসি আবুল কালাম বলেন, ’সংসদ সদস্যের সামনে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো নিয়ে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। ডিবি পুলিশ ও থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। তবে কারও কাছে হাঁসুয়া বা অন্য কোনো ধরনের অস্ত্র দেখিনি।’