শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৩ ২২:১২ পিএম
কেউ বাজনা বাজাচ্ছে, কেউ বাঁশি; কেউ মাইকে প্রচার করছে, কেউ খিচুড়ি রান্নায় ব্যস্ত; আবার কেউবা খাওয়ার পানি নিয়ে এগিয়ে আসছে। এভাবেই উৎসবমুখর পরিবেশে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন খালের ২২ কিলোমিটার কচুরিপানা অপসারণে অংশ নেন সর্বস্তরের লোকজন।
শনিবার (২৯ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে গ্রামের নারী-পুরুষ, ছাত্র-শিক্ষক, স্কাউট, আনসার-ভিডিপি, গ্রামপুলিশ, এনজিওকর্মী, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদসহ সর্বস্তরের প্রায় ১০ হাজার মানুষ নেমে পড়েন এ অপসারণের কাজে।
স্থানীয় লোকজন জানান, উপজেলার ২২ কিলোমিটার বদ্ধ খালে প্রায় এক যুগ ধরে কচুরিপানা জমে আটকে রয়েছে। ফলে খালের পানি দূষিত ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়েছে। চর্মরোগসহ নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। এ ছাড়া শরণখোলার অধিকাংশ গভীর ও অগভীর নলকূপে রয়েছে সমস্যা। তাই অজু-গোসলসহ দৈনন্দিন কাজে দেখা দিয়েছে চরম পানির সংকট। এ অবস্থায় এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্বেচ্ছাশ্রমে কচুরিপানা অপসারণের উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর ই আলম সিদ্দিকী জানান, বদ্ধ খালের আটকে যাওয়া এই কচুরিপানা এলাকার দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তাই এ দুর্যোগ থেকে মুক্তি পেতে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে স্বেচ্ছাশ্রমে কচুরিপানা অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। খালগুলোর ১০টি পয়েন্ট থেকে একযোগে সবাই এ কাজে অংশ নেন। এসব পয়েন্টে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষকসহ নেতৃস্থানীয়রা তদারকি করছেন। এ কাজে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল আলম মিলন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ সহযোগিতা করেছেন।
রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমল হোসেন মুক্তা ও খোন্তাকাটা ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন বলেন, ‘উপজেলার অভ্যন্তরীণ খালগুলোতে কচুরিপানা আটকে এলাকাবাসীর জন্য দুর্যোগে পরিণত হয়েছিল। তাই দলমত-নির্বিশেষে স্বেচ্ছাশ্রমে সবাই একযোগে কচুরিপানা অপসারণে ঝাঁপিয়ে পড়েছি। আর যাতে কচুরিপানা না জমতে পারে সে ব্যপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
আমিরুল আলম মিলন বলেন, ‘দুর্যোগের সময় শরণখোলার মানুষের পাশে থেকেছি। এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কচুরিপানা অপসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। সবাইকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য নিজে থেকে কচুরিপানা অপসারণে অংশ নিয়েছি।’
এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনবান্ধব বলে এ ধরনের দুর্যোগে সম্মিলিতভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছি। মানুষের যাতে কষ্ট না হয় প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে সব সময় এভাবেই পাশে থাকব।’