চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২২ ১৮:০২ পিএম
আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২২ ১৮:৩৫ পিএম
পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির ২৫তম সভায় উপস্থিত অতিথিরা : ছবি : প্রবা
সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের যে এলাকাগুলোতে ইতোমধ্যে উচ্ছেদ সম্পন্ন হয়েছে সেগুলো ‘দখলমুক্ত’ রাখতে ওই এলাকায় কার্যালয় করবে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি। পাশাপাশি আরও একবার চূড়ান্ত নোটিস দিয়ে বাকি এলাকাগুলোর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির ২৫তম সভায় সলিমপুরে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যালয় করার কথা বলেন কমিটির সভাপতি এবং চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার আশরাফ উদ্দিন।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সীতাকুণ্ডের সলিমপুরে যে এলাকাগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে তা যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে সেজন্য নিরাপত্তা জোরদার করা ও খালি স্থানগুলোতে র্যাব-পুলিশ-আনসার বাহিনীর সমন্বয়ে নিয়মিত টহল দেওয়া হবে। খুব শিগগিরই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। নতুন করে যাতে কেউ পাহাড় না কাটে সেজন্য নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
বাকি এলাকাগুলোতে উচ্ছেদের আগে সেখানকার বাসিন্দাদের পুনর্বাসন ও নোটিস দেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, পাহাড়ে অবৈধভাবে যারা বসবাস করছে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের নিজ নিজ স্থায়ী ঠিকানা আছে, সেখানেই পুনর্বাসন করা হবে। এ বিষয়ে এক মাস ধরে মাইকিং, প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে। অবৈধভাবে বসবাসকারীরা সীতাকুণ্ডের সহকারী (ভূমি) কার্যালয়ে গিয়ে তাদের আবেদন জমা দেবে। এরপর তাদের স্থায়ী এলাকার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনারের কাছে পাঠানো হবে। তারা পর্যালোচনা করে যদি দেখেন তারা ভূমিহীন, তবে সেখানেই তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। পাহাড়ে আর কোনো পুনর্বাসন করা হবে না।
জঙ্গল সমিলমপুরের দখলদারদের পেছন থেকে যারা ইন্ধন দিচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের হুঁশিয়ারি দিয়ে সভায় চট্টগ্রাম রেঞ্চের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, পাহাড় কেটে সরকারি খাস জায়গায় যারা অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে দীর্ঘদিন বসবাস করে আসছে তাদের বিরদ্ধে খুব শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি জায়গা দখল করে যারা পাহাড় কেটে সরকারি খাস জমি বিক্রি করছে তাদের পেছন থেকে ইন্ধন দিচ্ছে কিছু লোক। আর যখনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উচ্ছেদে যান তখনই তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা প্রশাসনের ওপর হামলা চালায়। তাদের আমরা চিহ্নিত করেছি। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলাও রয়েছে। যারা এ কাজগুলো করছে তাদের বিরুদ্ধেও আমরা ব্যবস্থা নেব।
সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ, চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-বন সংরক্ষক আবুল কালাম, বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. মাহাবুবউল আলম প্রমুখ।
প্রবা/আরএম/ এসআর