× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কালীগঞ্জের তাঁতিদের রঙিন দিনগুলো

মো. হাবিব ওসমান, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)

প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৩ ১৩:৪০ পিএম

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৩ ১৫:৩২ পিএম

নানা সংকটে এখনও তাঁতশিল্পকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন অনেক তাঁতি। প্রবা ফটো

নানা সংকটে এখনও তাঁতশিল্পকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন অনেক তাঁতি। প্রবা ফটো

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌর শহরের হেলাই, বলিদাপড়া, মনোহরপুর ও অনুপমপুর গ্রামের তাঁতি সম্প্রদায়ের লোকেরা একসময় আর্থিকভাবে বেশ সচ্ছল ছিলেন। পোশাক কারখানায় মেশিনে তৈরি কাপড়ের রমরমায় তাঁতে বোনা কাপড়ের চাহিদা কমে যাওয়া, সুতার বাড়তি দাম এবং পুঁজির ঘাটতির কারণে হারিয়ে গেছে তাদের সেই সোনালি দিন।

অনেকে ত্যাগ করেছেন আদি পেশা। কেউ কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন, কেউ বেছে নিয়েছেন রিকশা চালানো কিংবা ফেরিওয়ালার পেশা। আবার কারও কারও দিন কাটছে দিনমজুরি করে। এ ছাড়া অনেক তাঁত কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বাকিগুলোও বন্ধের পথে। ঐতিহ্য ধরে রাখতে তাঁত শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা সরকারি সহায়তা ও কম সুদে ঋণের দাবি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, উপজেলার শুধু অনুপমপুর গ্রামে কয়েকটি তাঁতের কারখানা চালু আছে। কালীগঞ্জ শহর থেকে ৪ কিলোমিটার পথ গেলেই এই অনুপমপুর গ্রাম। সেখানে আজও মুখরিত হয় সেই তাঁত বুননের শব্দে। 

অনুপমপুরের জামাত আলীর অধীনে একসময় চলত ১০টি তাঁত। পূর্বপুরুষ ও পারিবারিকভাবে ছিল তার এ ব্যবসা। পরিবারের সদস্যসহ আশপাশের লোকজন নিয়ে তার তাঁতে বুনন হতো শাড়ি, লুঙ্গি, গামছা, ধুতিসহ নানান ধরনের পরিধেয় বস্ত্র। বর্তমানে তার মাত্র চারটি তাঁত রয়েছে। জামাত আলীর পরিবারের অনেকেই আজ ত্যাগ করেছেন এ পেশা। জানা গেছে, গ্রামটিতে এখন ১৮টি পরিবার তাঁতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এখনও তারা চেষ্টা করছে চরকার চাকা ঘুরিয়ে ভাগ্যের চাকা সচল রাখতে। 

অনুপমপুরের রফিকুল ইসলাম নামের একজন জানান, তার দুটি তাঁত আছে। স্ত্রী, ছেলে ও ছেলের স্ত্রীকে নিয়ে এই কাজই করছেন। একটি তাঁতে প্রতিদিন ৪ থানে গামছা হয় ৮টা, যার পাইকারি মূল্য ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা। এই গামছা তৈরির সুতা আনতে হয় কুষ্টিয়ার বিত্তীপাড়া থেকে। নিজেদের পরিশ্রম, সুতা, রং, চরকা, মাকুর খরচ দিয়ে পোষানো অনেক কষ্টের। পৈতৃক কাজ ছাড়তে পারছেন না বলেই তারা এ ব্যবসা আজও ধরে রেখেছেন।

তিনি বলেন, তাঁতের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এতে মন খারাপের কিছু নেই। কেননা প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এমন অবস্থা হয়েছে। এ পরিবর্তনকে মেনে নিতে হবে। একসময় ঢেঁকিতে ধান ভাঙা হতো। এখন সেই ঢেঁকির ছাঁটা চাল হারিয়ে গেছে, এটাই বাস্তবতা। কিন্তু ঐতিহ্য রক্ষায় সরকারিভাবে তাঁত শিল্পের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে।

আরেক তাঁতি তাজুল ইসলাম জানান, এখন শাড়ির কাজ হয় না বললেই চলে। কারণ শাড়ির খরচ পুষিয়ে মূল্য পাওয়া কষ্ট। তাঁতের একটি শাড়ি তৈরিতে সময় লাগে প্রকারভেদে এক থেকে দুই দিন। খরচও লাগে প্রকারভেদে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, যা বিক্রি হয় ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা। তাঁতের শাড়ি থেকে মেশিনে তৈরি শাড়ির চাকচিক্য থাকে বেশি। সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গেলে ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক সাহায্য প্রয়োজন। কিন্তু তাঁত শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা পাচ্ছেন না। এ পেশার সঙ্গে জড়িত মানুষের জন্য নেই প্রয়োজনীয় পেশাগত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। পরিবর্তিত রুচি ও পছন্দের সঙ্গে সংগতি রেখে তাঁতবস্ত্রেও কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজনীয় সামর্থ্য তাঁতিদের নেই। ফলে তারা সনাতন পদ্ধতিতে সেই সনাতনি মানের কাপড় উৎপাদন করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই অবস্থায় তাঁতশিল্পের বিকাশের পথে প্রধানতম অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি সহায়তা ও কম সুদে ঋণ পেলে তারা এ শিল্প টিকিয়ে রাখতে পারবে। 

কালীগঞ্জ পৌর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আশাদুল ইসলাম বলেন, তাঁত শ্রমিকদের সময়োপযোগী কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় গতানুগতিক সনাতন পদ্ধতিতে পোশাক তৈরির ধারার বাইরে এসে আধুনিক রুচিসম্মত পোশাক তৈরি করতে কষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া মূলধনের সমস্যা তো রয়েছেই। তাঁত শিল্পে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা একেবারেই কম। পৃষ্ঠপোষকতা ও নজরদারির অভাবে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে কালীগঞ্জ উপজেলার তাঁতশিল্প। সরকারিভাবে মোটা অঙ্কের ঋণপ্রাপ্তির কোনো সুযোগ না থাকার কারণে তারা এই শিল্পে পুঁজি বিনিয়োগ করতে পারছেন না। ফলে মূলধনের অভাবে অনেক তাঁত এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। তাঁতশিল্পকে বাঁচাতে হলে সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ ও স্বল্প সুদে ঋণপ্রাপ্তির উদ্যোগ নিতে হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা