সুনামগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৩ ২০:৫৭ পিএম
শান্তিগঞ্জে রাজনার খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবিতে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। ছবি : প্রবা
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় রাজনা নামে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর হত্যাকাণ্ডের পর বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি করেছে সহপাঠীরা। তারা নিজেদের নিরাপত্তা চেয়ে সহপাঠীর খুনিদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
বুধবার (২৬ জুলাই) উপজেলার পাথারিয়া-দিরাই সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকালে এই দাবি জানান তারা। সুরমা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের আয়োজনে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচিতে নিহতের স্বজন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এর আগে গত শনিবার সন্ধ্যায় দিরাই সড়কের শরীফপুর এলাকায় বস্তাবন্দি অবস্থায় রাজনার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
মানববন্ধনে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে রাজনার হত্যাকাণ্ডের পর তিন দিন পার হলেও কাউকে আটক না করায় ক্ষুব্ধ। শিক্ষার্থী একা দেবী বলে, ‘আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাদের সহপাঠী রাজনার খুনিদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, এটা খুবই দুঃখজনক। ঘটনার তিন দিন হয়ে গেছে, এখনও আমরা কোনো খবর পাচ্ছি না। বাবা-মা ভয় পাচ্ছেন আমাদের বিদ্যালয় ও প্রাইভেটে পাঠাতে।’
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলে, ‘আমরা রাজনার হত্যার বিচার চাই। আমাদের সঙ্গেও এরকম ঘটনা ঘটতে পারে। রাজনার ঘটনার পর আমরা চলাফেরায় ভয় পাচ্ছি। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।’ বিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সানজিব পিয়াস বলেন, ‘খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে সড়ক অবরোধসহ আন্দোলনে নামব।’
রাজনা আক্তারের পিতা ইসরাইল মিয়া বলেন, ‘আমরা কয়েকজনকে সন্দেহ করছি। সাতজনের নাম লিখে থানার এসআইকে দিয়েছি। যাদের নাম দিয়েছি তারা আশপাশে ঘুরছে।’
সুরমা উচ্চবিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আগামী তিন দিনের মধ্যে রাজনা আক্তারের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।’ শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রভাষক নুর হোসেন বলেন, ‘যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আনোয়ার-উজ-জামান বলেন, প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পুলিশ চেষ্টা করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।