কক্সবাজার সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২২ ১২:১৩ পিএম
আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২২ ১২:৫৫ পিএম
কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌরুটে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। ছবি : প্রবা
কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌরুটে আবারও পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) সকাল ৭টায় কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ায় বাঁকখালী নদীর বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে পর্যটকদের বহনকারী এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস জাহাজটি সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা দেয়।
জাহাজ চলাচলের প্রথম দিন মাঝ সাগরে শতাধিক পর্যটক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এসব পর্যটকের অভিযোগ, এতে জাহাজ কর্তৃপক্ষের অবহেলা রয়েছে।
এমভি কর্ণফুলী জাহাজের কক্সবাজার অফিসের ইনচার্জ হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর বলেন, সকালে কক্সবাজার থেকে ৭৫০ যাত্রী নিয়ে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস জাহাজ রওনা দিয়েছে। বেলা ১২টার মধ্যে জাহাজটি সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আর বিকাল সাড়ে ৩টায় যাত্রীদের নিয়ে জাহাজটি সেন্টমার্টিন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেবে। জাহাজের যাত্রীদের জন্য ১০ ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন মূল্যের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। সর্বনিম্ন ৩ হাজার থেকে ২৮ হাজার টাকা পর্যন্ত টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌরুটে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। ছবি : প্রবা
হোসাইনুল ইসলাম বলেন, ‘মিয়ানমার সীমান্তে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এবং নাফ নদীতে নাব্য সংকটের কারণে সরকার চলতি মৌসুমে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করছিল। আজ কক্সবাজার থেকে ফের পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। এটি চলাচল অব্যাহত থাকবে।’
পর্যায়ক্রমে এ নৌরুটে আরও কয়েকটি জাহাজ পর্যটকদের পরিবহনে যুক্ত হবে বলে জানান এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের এ কর্মকর্তা।
কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের (টুয়াক) সভাপতি আনোয়ার কামাল বলেন, কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ সেন্টমার্টিন ভ্রমণ। কিন্তু হঠাৎ করে চলতি মৌসুমে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করায় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছিলেন। এরপর বৃহস্পতিবার কক্সবাজার থেকে জাহাজ চলাচল শুরু হলে টিকিটের চাহিদা বেড়ে যায়। তাই প্রথমদিন পর্যটকদের ভিড় ছিল লক্ষ্যণীয়।
কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌরুটে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। ছবি : প্রবা
কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের সেন্টমার্টিন ভ্রমণ বাধাগ্রস্ত হলে দেশের পর্যটনশিল্পের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। এতে পর্যটকরা কক্সবাজার-বিমুখ হবেন।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চৌধুরী মিজানুজ্জামান বলেন, সেন্টমার্টিনগামী জাহাজে পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বিক ব্যবস্থা নিয়েছে। জাহাজে ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি দলও পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে।
এদিকে, যাত্রা শুরুর ৩ ঘণ্টা পর মাঝ সাগরে শতাধিক পর্যটক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। জাহাজ থেকে কয়েকজন পর্যটক ফোনে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, অপরিচ্ছন্নতা ও পর্যাপ্ত এসির সংকটে জাহাজে থাকা শতাধিক পর্যটক বমি করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। জাহাজে চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থাও নেই।
জাহাজে থাকা কক্সবাজারের এক গণমাধ্যমকর্মী জানান, অসুস্থ পর্যটকরা শুয়ে আছেন। সেন্টমার্টিন পৌঁছার পর হয়তো চিকিৎসা পাওয়া যাবে।
হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর জানান, তিনি কক্সবাজার রয়েছেন। জাহাজের পরিস্থিতি জেনে বলতে পারবেন। অসুস্থ হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে অনেক সময় জাহাজে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা না থাকলে বমি হতে পারে। বিষয়টি তিনি দেখছেন।
প্রবা/এইচকে/ এসআর