পদ্মাপাড়ে অপেক্ষায় নিখোঁজ দুই শিশুর পরিবার
রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৩ ১২:৫৮ পিএম
আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৩ ১৩:২১ পিএম
পদ্মার তলদেশে নিখোঁজ দুই শিশুর খোঁজে হাতড়ে বেড়াচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল। পাড়ে অপেক্ষায় নিখোঁজদের স্বজনরা। সেখানে বসে মোবাইলে দুই শিশুর ছবি দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তারা।
নিখোঁজ দুই শিশুর একজনের দাদি জোছনা আহাজারি করতে করতে বলছিলেন, ‘আমাদের ছেলের শরীরডা ফিরায় দাও খোদা। বাড়িতে সবাই অপেক্ষা করছে। একটাবার আমার সোনার মুখ দেখার সুযোগ দাও খোদা।’
শনিবার (২২ জুলাই) সকালে রাজশাহী নগরীর বিনোদপুরের সাতবাড়িয়ায় পদ্মার ঘাটে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়। এখানেই গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে সমবয়সিদের সঙ্গে গোসল করতে নদীতে নেমে তলিয়ে যায় ১০ ও ১১ বছরের সিয়াম ও সাজিম। ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও তাদের সন্ধান পাননি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
আজ সকাল থেকেই সিয়ামের মা সীমা, নানি মর্জিনা, সাজিমের দাদি জোছনাসহ স্বজনরা নদীর পাড়ে অপেক্ষা করছেন। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, সিয়ামের মা সীমা নদীর দিকে দুই হাত দিয়ে তার ওড়না পেতে বসে রয়েছেন ছেলের জন্য। এ দুই পরিবারের সদস্যদের শোকে কাঁদছেন পদ্মাপাড়ের মানুষজনও। গতকাল নিখোঁজের পর রাত পার হয়েছেও এভাবে।
খোজাপুরের বাসিন্দা ইয়াকুব আলি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এ নদীর ঘাটে প্রতি বছর এক থেকে দুজন পানিতে ডুবে মারা যায়। কারও কারও মরদেহ মেলে আবার কারও কারও মেলে না।’
একই এলাকার ইয়ার আলী বলেন, ‘এ ঘাটের পাশে সিটি করপোরেশনের ড্রেনের পানি নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই পানিতে নদীর মাঝে বড় একটা গর্ত সৃষ্টি হয়েছে; যা খরার সময় দেখা যায়। নদীতে যখন পানি বাড়ে তখন ওই গর্তে পাকের (ঘূর্ণি) সৃষ্টি হয়। ওই পাকে কেউ পড়লে আর ফিরে আসতে পারে না।’
ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদলের প্রধান আবদুর রাজ্জাক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘নদীতে প্রচুর স্রোত। ডুবুরিদের উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হচ্ছে। রাত নেমে আসায় শুক্রবার সন্ধ্যার পর উদ্ধারকাজ স্থগিত করা হয়। তবে শনিবার সকাল ৬টায় আবারও উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়েছে।’