কেএনএফ ও শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির প্রথম আলোচনা
বান্দরবান প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৩ ২২:৫০ পিএম
আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৩ ২২:৫১ পিএম
বান্দরবানে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি ও কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) মধ্যে প্রথম ভার্চুয়ালি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকের পর আলোচনার বিষয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির মুখপাত্র কাঞ্চনজয় তঞ্চঙ্গ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। বৈঠকে তাদের পক্ষ থেকে পাহাড়ে স্থিতিশীলতা ফেরাতে কেএনএফের কাছে শান্তির প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
প্রতিদিনের বাংলাদেশকে কাঞ্চনজয় তঞ্চঙ্গ্যা আরও জানিয়েছেন, সংলাপ চলার সময় যেন কোনো ধরনের অপহরণ-সংঘাতের মতো ঘটনা না ঘটে, সে ব্যাপারে শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি ও কেএনএফ বৈঠকে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। সংগঠনটি বৈঠকে অপহরণ ও হত্যার মতো কার্যক্রম থেকে ‘বিরত থাকার’ বিষয়ে অঙ্গীকার করেছে। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় পর্যটন কার্যক্রমের ব্যাপারে আপত্তি তুলেছে ও পর্যটন স্পটগুলো বন্ধ রাখতে বলেছে। তাদের পক্ষ থেকে আরও কিছু দাবি এসেছে। তিনি জানান, এসব দাবি শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি সরকারের কাছে পৌঁছে দেবে বলে বৈঠকে বলা হয়েছে।
বুধবার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টাব্যাপী এ ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ সভাকক্ষ থেকে শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির ১২ সদস্য। শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির মুখপাত্র ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য কাঞ্চনজয় তঞ্চঙ্গ্যা এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। অন্যদিকে চার সদস্যবিশিষ্ট কেএনএফ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ‘ব্রিগেডিয়ার জেনারেল’ মুইয়াম বম। তবে তারা কোন স্থান থেকে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি সে ব্যাপারে কিছু জানাতে পারেনি।
বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটিতে সরকারি বা প্রশাসনিক কোনো কর্মকর্তা নেই। তবে এ ধরনের সংলাপকে তারা স্বাগত জানান।
‘ফলপ্রসূ ও আন্তরিক আলোচনা’ : শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি
বৈঠকের আলোচনা ও কেএনএফের দাবি-দাওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে মুখপাত্র কাঞ্চনজয় জানান, গত ১৯ মে ফেসবুক পেজে কেএনএফ যেসব দাবি পেশ করেছে, বৈঠকেও সেগুলোকে তাদের দাবিনামা বলে নিশ্চিত করেছে। তিনি বলেন, বৈঠকে আমরা শান্তির প্রস্তাব দিয়েছি। তারাও শান্তি চায় বলে জানিয়েছে।
তিনি জানান, বেশ কয়েকবার যোগাযোগ ও চিঠি আদান-প্রদান করার পর গতকাল প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অত্যন্ত ফলপ্রসূ এবং আন্তরিক আলোচনা হয়েছে। আলোচনা কেবল শুরু হয়েছে। শান্তির এই সংলাপপ্রক্রিয়া চলমান থাকবে এবং সামনে আরও আলোচনা হবে।
উল্লেখ্য, বান্দরবানে কেএনএফের তৎপরতায় উদ্ভূত সমস্যা সমাধানের জন্য ২২ জুন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লাকে আহ্বায়ক, কাঞ্চনজয় তঞ্চঙ্গ্যাকে মুখপাত্র ও সদস্য এবং লালজার বমকে সদস্য সচিব করে ১৮ সদস্যবিশিষ্ট শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি গঠন করা হয়। পাহাড়ের ১১টি নৃগোষ্ঠীর নেতা ও অন্যান্য পেশাজীবী জনজীবনকে স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে কেএনএফের সঙ্গে আলোচনার লক্ষ্যে এ কমিটি গড়ে তোলা হয়।
এ কমিটি গঠনের পর ১৬ জুলাই কেএনএফ ফেসবুকে তাদের পরিচালিত পেজে এক স্ট্যাটাস দিয়ে জানায়, নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় পর্যটন স্পটে গেলে এবং কোনো অঘটন ঘটলে কুকি-চিন দায়ী থাকবে না। গতকাল সংলাপের সময়ও পর্যটন স্পটগুলো বন্ধ রাখার দাবি করেছে সংগঠনটি।
কেএনএফের তিন দফা দাবিনামা
১৯ মে কেএনএফ পরিচালিত ফেসবুক পেজে সরকারের কাছে কেএনএফ তিনটি দাবি তুলে ধরে। এগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ প্রথমত. কুকি-চিন জনগোষ্ঠীর পূর্বপুরুষদের আদিভূমি ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণার্থে পার্বত্য চট্টগ্রামের পূর্বাঞ্চলের ৯টি উপজেলা (তথা বাঘাইছড়ি, জুরাইছড়ি, বরকল, বিলাইছড়ি, রোয়াংছড়ি, রুমা, থানছি, লামা ও আলিকদম) নিয়ে একটি পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থাসহ পৃথক স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল প্রদান করতে হবে।
দ্বিতীয়ত. পূর্বাঞ্চলের ৯ উপজেলা নিয়ে গঠিত এলাকাকে দেশের জেলা ও আঞ্চলিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা থেকে আলাদা করতে হবে। পাশাপাশি এ অঞ্চলের পাহাড় ও বনাঞ্চল সংরক্ষণার্থে ‘ইনার লাইন পারমিট’ (আইএলপি) প্রণয়ন করতে হবে।
তৃতীয়ত. ভারতের মিজোরাম রাজ্যে ও মিয়ানমারের পালেতুয়া অঞ্চলে দেশান্তরিত হওয়া অনগ্রসর ও নিষ্পেষিত কুকি-চিন জনগোষ্ঠীকে পার্বত্য চট্টগ্রামের পৈতৃক ভূমিতে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি এবং পুনর্বাসনের সুব্যবস্থা নিতে হবে।