বগুড়ায় ব্যুরো
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২২ ১৬:০০ পিএম
আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২২ ১৬:১৬ পিএম
বগুড়ায় প্রথমবারের মতো কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত। ছবি : প্রবা
বগুড়ায় শারদীয় দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমীতে প্রথমবারের মতো কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৩ অক্টোবর) ১১টায় শাজাহানপুর উপজেলার গণ্ডগ্রাম এলাকার শ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রমে পূজাটি অনুষ্ঠিত হয়। পূজামণ্ডপ হিন্দু ধর্মপ্রাণ নারী-পুরুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে। কুমারী পূজা দেখতে মন্দির প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের ভিড়ও দেখা যায়।
কুমারী পূজার জন্য মাতৃভাবের পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে কুমারী মায়ের আসনে বসানো হয় ৮ বছর বয়সি শুভশ্রী রাণী দাসকে। কুমারীর বয়স ৮ বছর হওয়ায় কুষ্ঠিকা নামে পূজিত হন। পূজা কার্যক্রম পরিচালনা করেন আশ্রমের পুরোহিত বাসুদেব ব্যানার্জী।
পূজা দেখতে আসা সঞ্চিতা বসাক জানান, আগে টেলিভিশনে কুমারী পূজা দেখেছি। আজ বাস্তবে দেখে ভালো লাগছে। এই পূজার মাধ্যমে নারীশক্তির জয় কামনা করি।
৭০ বছর বয়সি গোবিন্দ সাহা জানান, এর আগে কোথাও কুমারী পূজা দেখা হয়নি। আজ বগুড়ার এই আশ্রমে সেটা দেখার সৌভাগ্য হলো । তাই পরিবারের সবাই মিলেই এই পূজা দেখতে চলে এসেছি।
পুরোহিত উপস্থিত পূজার্থীদের উদ্দেশে বলেন, কুমারী আদ্যশক্তি মহামায়ার প্রতীক। দুর্গার আরেক নাম কুমারী। মূলত নারীকে যথাযথ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করতে কুমারী পূজা করা হয়। মাটির প্রতিমায় যে দেবীর পূজা করা হয়, তারই বাস্তব কুমারী পূজা।
কুমারী পূজায় অধিষ্ঠিত শুভশ্রীর মা স্বরস্বতী বলেন, আমরা সম্মানিত বোধ করছি। মেয়েরা নানা সময় যে বঞ্চনার শিকার হয়, মাতৃবন্দনার মধ্য দিয়ে যেন সেই অসুর প্রবৃত্তির বিনাশ ঘটে।
বগুড়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, এ বছর বগুড়ায় ১২টি উপজেলায় ৬৭৯ মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ১৫০টির অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ২৪০টি গুরুত্বপূর্ণ ও ২৮৯টি সাধারণ। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে দুর্গোৎসব সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও মন্দির কমিটির পক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। আগামী বুধবার বিজয়া দশমীর মাধ্যমে দুর্গোৎসব শেষ হবে।
প্রবা/আরএম/টিই