ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৩ ২২:১২ পিএম
আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৩ ২২:৫৪ পিএম
তিস্তার ডালিয়া পয়েন্ট। প্রবা ফটো
ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তায় চতুর্থবারের মতো বাড়তে শুরু করেছে পানি। বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) সকালে তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সন্ধ্যায় তা ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
এর ফলে ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ী, খালিশাচাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, পূর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, টেপাখড়িবাড়ী ও গয়াবাড়ী ইউনিয়নের ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলার ১৫টি চরাঞ্চলের তিন হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদ্দৌলা বলেন, ‘বন্যা নিয়ন্ত্রণে আমরা সব সময় প্রস্তুত রয়েছি। উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সারাক্ষণ যোগাযোগ করছি। পানি নিয়ন্ত্রণে সবগুলো (৪৪) জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।’
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ডিমলার পূর্ব ছাতনাই ও ঝাড়সিংহেশ্বর গ্রামের প্রায় এক হাজার পরিবারের বাড়িঘরে পানি ঢুকেছে। দুপুরের দিকে পানি কিছুটা কমলে স্বস্তি ফেরে পরিবারগুলোর মধ্যে। কিন্তু বেলা ৩টায় ফের পানি বৃদ্ধিতে অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়। তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে ইউনিয়নের টাপুর চর, পাগলার চর, টেপাখড়িবাড়ীসহ কয়েক গ্রামের পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘ভারত থেকে আসা উজানের ঢলের প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে পানি বিপদসীমার ৩৫ সেমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এইসব স্থানে বসবাসরত লোকজনদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ করা হবে।’