চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৩ ১৮:৪৭ পিএম
আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৩ ১২:১৩ পিএম
রাজাবাবু ষাঁড়। প্রবা ফটো
গলায় লাল ফিতা ও মাথায় বেঁধে দেওয়া হয়েছে ফুল। হাঁটাচলার ভাবখানা একদম রাজকীয়। শখ করে মালিক ষাঁড়টির নাম রেখেছেন ‘রাজাবাবু’। রাজাবাবুর বিশাল দেহ, গায়ের রঙ সাদা-কালো। কোরবানিকে সামনে রেখে আলোচনায় ছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩৫ মণ ওজনের রাজাবাবু। মালিক আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় ষাঁড়টি বিক্রি করেননি। তাই ষাঁড়টি ফিরেছে তার চিরচেনা গোয়ালঘরে।
বিশাল দেহের ষাঁড়টি জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের সাবেক জনপ্রতিনিধির খামারে লালিত-পালিত হয়েছে। খামারের মালিক জুলফিকার আলী তার লালন-পালন করা রাজাবাবু নামের ষাঁড়টিকে পরম যত্নে দেখভাল করেছেন। হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়টির দাম হাঁকা হয়েছিল ১৭ লাখ।
দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে গরুর খামার করে আসছেন সাবেক ইউপি সদস্য জুলফিকার আলী। এবারের কোরবানি ঈদে পশুর হাট কাঁপানোর জন্য ৩৫ মণ ওজনের ষাঁড়টিকে বিশেষভাবে দেখভাল করেছিলেন। প্রতিদিন তার খাবারে খরচ হয় অনন্ত হাজার টাকা। সম্পূর্ণ স্টেরয়েডবিহীন খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত শান্ত-স্বভাবের গরুটি দেখতে ছুটে আসে বহু মানুষ।
গত বছরের কোরবানি মৌসুমে ৩২ মণ ওজনের ‘চাঁপাই সম্রাট’ নামে একটি ষাঁড়ের মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসেন খামারি জুলফিকার আলী। গত বছর ষাঁড়টি আশানুরূপ দামে বিক্রি করতে না পারলেও এবার কাঙ্ক্ষিত লাভের আশায় বুক বেঁধেছিলেন রাজাবাবুকে নিয়ে। কিন্তু এই স্বপ্নটিও অধরায় থেকে গেল।
জুলফিকার আলী জানান, বিশাল দেহের রাজাবাবুকে ঢাকার গাবতলী পশুর হাটে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। ক্রেতারা সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা দাম দিতে চেয়েছিল। আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় ওই দামে বিক্রি করেননি রাজাবাবুকে।
তিনি আরও বলেন, কোরবানির ঈদের জন্য রাজাবাবুকে প্রস্তুত করা হয়েছিল। শান্ত স্বভাবের এই ষাঁড়টি ধান-চাল-গম-ভুসিসহ অন্য খাদ্য খাওয়ানো হয়। তীব্র খরতাপে দিনে বিশাল দেহের রাজাবাবুকে একাধিকবার গোসল করানো হয়। গাবতলী হাটে এই ষাঁড়টি বিক্রি করার জন্য নেওয়া হয়েছিল। আশানুরূপ দাম পাওয়া যায়নি তাই আবার বাড়ি ফিরিয়ে আনা হয়েছে ষাঁড়টি।