× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পদ্মার ভাঙনের মুখে অসংখ্য গ্রাম

ইমরান হোসেন মনিম, রাজবাড়ী

প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৩ ১৩:২০ পিএম

উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানির স্রোতের তীব্রতায় পদ্মার বিভিন্ন পাড়ে ফের শুরু হয়েছে ভাঙন। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট এলাকা থেকে তোলা। প্রবা ফটো

উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানির স্রোতের তীব্রতায় পদ্মার বিভিন্ন পাড়ে ফের শুরু হয়েছে ভাঙন। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট এলাকা থেকে তোলা। প্রবা ফটো

পদ্মায় প্রতিদিন পানি বাড়ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে।

স্রোতের তীব্রতায় নদীর বিভিন্ন পাড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। এর মধ্যে গোয়ালন্দ উপজেলার ছোট ভাকলা, দেবগ্রাম, দৌলতদিয়াসহ ১০টি ইউনিয়নের গ্রামের মানুষ ভাঙনের মুখে আতঙ্কে বসবাস করছেন। এসব ইউনিয়নের যদু মাতাব্বার পাড়া, শাহা বেপারী পাড়া, নালু মন্ডল পাড়া ও ইদ্রিস পাড়াসহ অসংখ্যা স্থানে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে। নিঃস্ব হওয়ার পথে হাজার হাজার মানুষ।

প্রতি বছর ভাঙন দেখা দিলে তাৎক্ষণিক জিও ব্যাগ ফেলার কার্যক্রম পরিচালনা করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পাউবো প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে শক্তপোক্ত করে নদীভাঙন রোধে কাজ করবে বলে জানায়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গোয়ালন্দ উপজেলার ছোট ভাকলা, দেবগ্রাম, দৌলতদিয়াসহ ১০টি ইউনিয়নের মানুষ দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর, হাবাসপুর, রতনদিয়া, রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর, চন্দনী, বরাটে বাড়িঘর ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। কর্তৃপক্ষের বাঁধ রক্ষা কাজের গড়িমসি নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এ ছাড়া নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফের ভাঙন শুরু হয়েছে ৬ ও ৭ নং ফেরিঘাটে। এর আগে গত বছর ৫ নং ফেরিঘাট নদীতে বিলীন হয়ে যায়। আজও ওই ঘাটটি স্থাপন করতে পারেনি বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। তবে লঞ্চঘাটটি সরিয়ে অন্যত্র স্থাপন করা হলেও ১ ও ২ নং ফেরিঘাট আজও চালু হয়নি। ভাঙনে বিলীন হওয়া তিনটি ফেরিঘাট গত চার বছর পেরিয়ে গেলেও সচল করতে পারেনি বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।

প্রকল্প পরিচালক মো. তারিকুল হাসান বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বেড়েছে। এজন্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। কারিগরি কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর ডিপিপি সংশোধন করা হবে। এর মধ্যে জমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন করা হলে একনেকে অনুমোদনের পর দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। আশা করছি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে জনগণ সুফল পাবেন।

দৌলতদিয়া ইউনিয়নের লঞ্চঘাট সংলগ্ন নতুন পাড়া গ্রামের বৃদ্ধা ছালেহা বেগমের ঘরটি পদ্মার ভাঙনের মুখোমুখি। এর আগেও নদী ভাঙনে তার বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়েছে। কয়েক বছর আগে লঞ্চঘাট এলাকায় এসে অন্যের জমিতে বসবাস করছেন। সেখানেও তীব্র নদী ভাঙন দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। এবার নদীতে বাড়িঘর বিলীন হলে কোথায় ঠাঁই নেবেন ভেবে কূল করতে পারছেন না তিনি।

গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ছাড়াও ভাঙন রোধে কাজ করে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। তাদের দৌলতদিয়ার অস্থায়ী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বর্ষা মৌসুমে অন্তত ৩০ হাজার জিও ব্যাগ ফেলার কাজ করা হয়েছে। দৌলতদিয়া ঘাটের মানুষ এতেও সন্তুষ্ট নয়। স্থানীয় বাসিন্দা আলীম উদ্দীন জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড বর্ষার সময় কেবল বালির বস্তা ফেলে। এতে যে স্থায়ী কাজ হয় না বিষয়টি তাদের বোঝানোর মতো কেউ নেই।

বিআইডব্লিটিএ দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম জানান, এবার শুষ্ক মৌসুমে কোনো কাজ হয়নি। তবে চলতি বর্ষা মৌসুম মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি রয়েছে তারা। রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী এম এ শামিম জানান, দৌলতদিয়া নদী ভাঙনে এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। এ স্থানের ভাঙন রোধে বাজেট বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। দপ্তর থেকে নির্দেশনা পেয়ে কাজ শুরু করবেন বলে জানান তিনি।

রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক সুবর্ণা রানী সাহা জানান, ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আশা করছি ভাঙন স্থানে দ্রুত কাজ করবে কর্তৃপক্ষ।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা