পঞ্চগড় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৩ ১৮:২০ পিএম
পঞ্চগড়ে বখাটের ভয়ে দশম শ্রেণির এক ছাত্রী স্কুল যেতে পারছেন না। ক্রমাগত হুমকি ও উত্যক্ত করায় ছাত্রীর লেখাপড়া প্রায় বন্ধ হতে বসেছে। প্রতিকার মিলছে না মামলা করেও।
ওই ছাত্রীর বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের টেংগনমারী এলাকায়। সে লাঙ্গলগাঁও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযুক্ত যুবকের নাম হৃদয় হোসেন। তার বাড়িও টেংগনমারী এলাকায়।
ছাত্রীর পরিবার জানায়, ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকে প্রতিবেশি হৃদয় হোসেন ছাত্রীকে প্রেম নিবেদন করে আসছে। প্রেমে সাড়া না দেওয়ায় হৃদয় একই এলাকার সুজন, তার ছোট ভাই রিপন ও সাইফুল্লাহকে নিয়ে তাকে উত্যক্ত শুরু করে। দিন যতো গেছে উত্যক্তের পরিমানও বেড়েছে। মাস ছয়েক আগে হৃদয় তাকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টাও করে। এ ঘটনায় পঞ্চগড় সদর থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে পুলিশ দুই পক্ষকে নিয়ে সমঝোতা করে দেয়। হৃদয়কে ধাক্কামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় দেওয়া হয়। এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে সঙ্গে সঙ্গেই তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে বলা হয়। এরপর কিছুদিন উৎপাত থেমে থাকলেও ফের হৃদয় ছাত্রীকে উত্যক্ত করা শুরু করেছে।
পরিবার আরও জানায়, গত ২৪ মে হৃদয়ের ছোট ভাই রিপন, সাইল্লাহ ও সুজন ওই ছাত্রীর ৪ বছরের ছোট বোন ও তার চাচার ৬ বছরের ছেলেকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে। এ ঘটনায় গত ১ জুন মামলা করেন ছাত্রীর বাবা। মামলার পর হৃদয় ছাত্রীকে অপহরণ করার হুমকি দিচ্ছেন।
ছাত্রীর বাবা বলেন, মামলা করার পরও অত্যাচার থেকে মুক্তি পাচ্ছি না। রাতে আমার বাড়ির চারপাশে দলবল নিয়ে বখাটেরা ঘুরাঘুরি করে। ভয়ে, আতঙ্কে আমি কাজে যেতে পারছি না। মেয়ের যে কয়দিন পরীক্ষা ছিল আমি নিয়ে গেছি নিয়ে আসছি। এখন যেতে পারছি না বলে তার স্কুল যাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
লাঙ্গলগাঁও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিদ্দিক হোসেন বলেন, সে এমন সমস্যায় পড়েছে আমরা জানতাম না। আগে জানলে সব ধরণের সাপোর্ট দিতাম। সে নিয়মিত স্কুলে না আসায় আমরা বার বার খোঁজ নিয়েছি। বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।
সব অভিযোগ অস্বীকার করে হৃদয় হোসেন বলেন, আমি গাড়ি চালাই, বাড়িতে থাকি না। তারা যে অভিযোগ করেছে সব মিথ্যা। আমি মেয়েদের উত্যক্ত করি কি না এলাকার মানুষকে জিজ্ঞাসা করলেই জানতে পারবেন।
পঞ্চগড় সদর থানার উপ-পরিদর্শক ভবেশ চন্দ্র পাল বলেন, এর আগে ছাত্রীকে উত্যক্ত করার ঘটনায় থানায় বসে উভয়পক্ষ সমঝোতা করে। সম্প্রতি তার ছোট বোনকে বিবস্ত্র করে অশ্লীল ভিডিও তৈরির একটি মামলা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। ওই মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তাদের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে। আর স্কুল ছাত্রীকে উত্যক্ত করার বিষয়ে নতুন করে তারা অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম প্রামানিক বলেন, আমরা বিষয়টি জানার পর লাঙ্গলগাঁও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ছাত্রীর বাড়িতে পাঠিয়েছি। তিনি সমস্যার কথা শুনেছেন। পরে আমরা এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি।