চট্টগ্রামে বিএনপি নেত্রীকে হেনস্তা
চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৩ ২২:৩৫ পিএম
আপডেট : ১৭ জুন ২০২৩ ২২:৩৮ পিএম
চট্টগ্রামে বিএনপির তারুণ্যের সমাবেশ থেকে ফেরার পথে মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানা এলাকায় নাদিয়া নুসরাত নামে এক নেত্রীকে আটকে হেনস্থা করা হয়েছে। বুধবার (১৪ জুন) রাতে উপজেলার ইছাখালীর ইউপি চেয়ারম্যান মো. নুরল মোস্তফার ছেলের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাকে দুই ঘণ্টা আটকে রেখে হেনস্তা করেছে বলে বিএনপি অভিযোগ করেছে। আর তার পরিবার বলছে, ওই সময় নাদিয়াকে মারধরের পাশাপাশি হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছে।
পরে রাত ১টার পর নাদিয়াকে পুলিশে দেয় চেয়ারম্যানের অনুসারীরা। পুলিশ পুরোনো একটি নাশকতার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। যদিও তিনি ওই মামলায় এজহারভুক্ত আসামি না। পুলিশ বলছে, নাশকতার ওই ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা ছিল।
নাদিয়াকে সমাবেশ থেকে ফেরার পথে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে দিয়েছে বলে উল্লেখ করলেও তাতে নিজের ও তার অনুসারীদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন নুরুল মোস্তফা।
তিনি বলেন, ‘মেয়েটা ভাল না। ভাল কোন মেয়ে রাতের ১১ টায় অন্য এলাকায় যায়? তাই স্থানীয়রা তাকে আটক করেছে। আমি পুলিশকে বলেছি যেন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। তারা তাকে উদ্ধার করে নিয়ে গেছে। একটা মামলা দিয়েছে।’
নাদিয়া নুসরাত মিরসরাই ১০ নম্বর মিঠানালা ইউনিয়নের মৃত আলী আকবরের মেয়ে। তিনি মিরসরাই ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রচার সম্পাদক। ওই দিন চট্টগ্রামের কাজীর দেওরী মোড়ে বিএনপির তিন সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে তারুণ্যের সমাবেশ হয়। সেই সমাবেশ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। ফেরার পথে তার সঙ্গে আসা দলীয় কর্মীদের বাড়ি পৌঁছে দিতে ইছাখালী যান তিনি। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাড়ি ফেরার পথে শাহাজী বাজার এলাকায় গাড়ি আটকে তাকে আটক করা হয়।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার রাত ১১টার দিকে ইছাখালীর শাহাজী বাজারে কয়েকজন মিলে নাদিয়ার সিএনজি আটকে তাকে আটক করে। পরে তাকে নিয়ে আশপাশের এলাকা প্রদক্ষিণ করে তারা। ওই সময় তাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছিল। কেউ কেউ চড় থাপ্পড়ও মারছিল।
নাদিয়া নুসরাতের মা কোহিনূর বেগম বলেন, ‘রাত ১১টার দিকে নাদিয়াকে তুলে নিয়ে যায়। আমরা বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করি। পরে কোন উপায় না দেখে আমি নিজে ইছাখালী যাই ১২টার পরে। সেখানে গিয়ে দেখি ২০০-৩০০ লোক জড়ো হয়েছে। তারা আমার মেয়েকে হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে দিতেও চেয়েছে। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যানের বাড়িতে নেবে বলে একটা চায়ের দোকানে নিয়ে বসায়। আমার যাওয়ার পর আমার মেয়ের সঙ্গে আমাকেও বসায়। এক পর্যায়ে একজন আমাকে চড়-থাপ্পড় দেয়। পরে তারা পুলিশ ডাকে। রাত দেড়টার দিকে দুজন পুলিশ এসে আমাকে ও আমার মেয়েকে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশের সামনেও তারা আমাদের মারধর করেছে।’
মিরসারাই উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘চেয়ারম্যানের ছেলে পাভেলের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। নাদিয়া পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছিল। পুলিশ তাকে সহযোগিতাতো করেনি। বরং ২০২২ সালের এক নাশকতার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে।’
চেয়ারম্যান নুরুল মোস্তফা বলেন, ‘আমি রাতের ১২টার দিকে জানার পর পুলিশকে জানিয়েছি। তারা গিয়ে উদ্ধার করেছে। তারা মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বোধহয় একটা মামলা দিয়েছে। কী মামলা দিয়েছে জানি না, বিস্ফোরক মামলা হতে পারে। মেয়ের এলাকার মেম্বারের সঙ্গেও ওসি কথা বলেছেন। তারা বলছে মেয়ের সমস্যা আছে।’
জোরারগঞ্জ থানার ওসি নূর হোসেন মামুন বলেন, ‘তাকে স্থানীয়রা আটক করেছিল। থানায় আনার পর ২০২২ সালে হওয়া এক বিস্ফোরক মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, সেই মামলায় মেয়েটি ছিল। তখন তাকে সে মামলায় চালান দেওয়া হয়েছে।’
পুলিশকে নাদিয়ার বিষয়ে চেয়ারম্যান জানিয়েছিলেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এলাকা থেকে বিষয়টা জানানো হয়েছে।’ মামলায় নাদিয়া এজহারভুক্ত আসামি ছিলেন কি না জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘না, তদন্তে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।’
বিএনপি এই নেত্রীকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এমন কোন অভিযোগ পাইনি।’