হবিগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৩ ২১:০৪ পিএম
গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে সৌদি আরব যাওয়া হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের টিলাবাড়ি গ্রামের গৃহবধূ আমিনা আক্তার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ জন্য তিনি দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন।
সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় আমিনা আক্তার তার ওপর নির্যাতনের বর্ণনা দেন। সেখানে তার শরীরে নির্যাতনের একাধিক চিহ্ন দেখা গেছে।
জানা গেছে, গত বছরের ১০ নভেম্বর আমিনা আক্তার স্থানীয় ‘দালাল’ শাহিন মিয়ার মাধ্যমে সৌদি আরব যান। সেখানে তার উচ্চ বেতনে কাজ দেওয়ার কথা ছিল।
আমিনার স্বামী মিশন মিয়া স্ত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে গত ৮ মে হবিগঞ্জ মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে শাহিন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আদালত মামলাটি পুলিশ ব্যুারো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মিশন মিয়ার দাবি, উপজেলার হলদিউরা গ্রামের শাহিন মিয়া তার স্ত্রীকে উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকার একটি এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে পাঠায়। সেখানে আরও একাধিক মানুষের সহযোগিতায় আমিনা বেগমকে মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি করে দেয়।
তিনি বলেন, চক্রের সদস্যরা আমার স্ত্রীকে নানাভাবে নির্যাতন করছে। অন্য একজনের মুঠোফোন থেকে সে মিশন মিয়ার মুঠোফোনে একটি ভিডিও বার্তা পাঠায়। সেখানে সে তার ওপর হওয়া নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে তাকে উদ্ধারে আকুতি জানায়।
হলদিউরা গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুল মন্নান বলেন, দালাল শাহিন এ গ্রামসহ আশে-পাশের অন্যান্য গ্রামের অনেক নারীকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছে।
মো. আব্দুল মতিন বলেন, আমিনার নির্যাতনের ভিডিও দেখেছি। সরকার যাতে দ্রত তাকে দেশে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করে এ দাবি করছি।
আমিনার বাবা আব্দুল মজিদ বলেন, শাহিন আমার মেয়েকে লোভ দেখিয়ে ঢাকার দালালদের মাধ্যমে সৌদি আরব পাঠায়। মোবাইল ফোনে দেখলাম আমার মেয়ের ওপর অত্যাচার হচ্ছে। আমার মেয়েকে ফেরত চাই।
শাহিন মিয়ার দাবি, তিনি এ ঘটনা সম্বন্ধে কিছুই জানেন না। তিনি বলেন, বিষয়টি মিথ্যা। সঠিক তদন্ত হলে আমাার কিছু হবে না। আমি অন্যায়কারী হলে আমার সাজা হবে।