সিলেট অফিস
প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৩ ১৭:৪৩ পিএম
আপডেট : ৩০ মে ২০২৩ ১৮:০৭ পিএম
গৃহবধূ মমতা বেগমের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে শিশুসন্তানটিকে। পরে মমতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রবা ফটো
এতিম পরিচয়ে জাফর নামের এক ব্যক্তি সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তমপুরের উপরগ্রামের মো. ফয়জুদ্দিনের বাড়িতে আশ্রয় নেন। অল্প সময়েই আশ্রয়দাতার বিশ্বাস অর্জন করেন জাফর।
প্রায় ২০ দিন ফয়জুদ্দিনের বাড়িতে অবস্থানের পর শনিবার (২৭ মে) সকালে আশ্রয়দাতার ১৪ মাস বয়সি শিশু শাহজাহানকে চুরি করে পালিয়ে যান জাফর। এরপর ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে বিক্রি করে দেন তিনি।
সোমবার (২৯ মে) রাতে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার সর্দারপুর গ্রাম থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ।
এ সময় শিশু অপহরণের অভিযোগে সর্দারপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী মমতা বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে জাফরকে গ্রেপ্তারে জোর অভিযান চলছে বলে জানায় বাহিনীটি।
মঙ্গলবার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সিলেট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) শেখ মো. সেলিম প্রেস ব্রিফিং করে এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, ২৭ মে সকালে বাড়িতে শিশু ও জাফরকে না পেয়ে মো. ফয়জুদ্দিন গোয়াইনঘাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধারে নানা তৎপরতা শুরু করে। একপর্যায়ে নবীগঞ্জ উপজেলার সর্দারপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী মমতা বেগমের কাছ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
এসপি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মমতা বেগম ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে জাফরের কাছ থেকে শিশুটিকে কিনেছেন বলে দাবি করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সেলিম জানান, গ্রেপ্তার মমতা বেগমের কন্যাসন্তান থাকলেও কোনো ছেলেসন্তান নেই। এজন্য নিজের সন্তান হিসেবে লালন-পালনের জন্য তিনি জাফরের কাছ থেকে শিশুটিকে কিনেছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন।
আসামি জাফরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টার পাশাপাশি বিষয়টিও পুলিশ খতিয়ে দেখছে বলে জানান এসপি।