শরীয়তপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৩ ১৭:৪৪ পিএম
আপডেট : ২৩ মে ২০২৩ ১৭:৪৮ পিএম
অভিযুক্ত ভেদরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। সংগৃহীত ছবি
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে দুই নারীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২২ মে) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লাঞ্ছনার শিকার দুই নারী হলেন- উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা গৃহিনী নাজমা বেগম ও জন্নাত বেগম।
জানা যায়, পাঁচ মাস আগে দুই নারী ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেওয়ার আবেদন করেন। নিয়ম মেনে আবেদন করলেও সমাজসেবা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান তাদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নেন। পাঁচ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও ঋণ না পেয়ে তারা ঘুষের টাকা ফেরত চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই কর্মকর্তা প্রথমে নাজমাকে থাপ্পড় মারেন। এতে জান্নাত বেগম বাধা দিলে তাকেও ধাক্কা মারতে মারতে অফিসের বাইরে নিয়ে এসে নিচে ফেলে দেন। পরে ভুক্তভোগী দুই নারী ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
ভুক্তভোগী নাজমা বেগম বলেন, আমার স্বামীর তেমন কোনো ইনকাম নেই। ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য কিছু টাকা দরকার ছিল। এজন্য ঋণের আবেদন করেছিলাম। ঋণ দিতে সমাজসেবা কর্মকর্তা আমার কাছে পাঁচ হাজার ঘুষ নেন। পরে ঋণ না দেওয়ায় ওই টাকা ফেরত চাই। কিন্তু তিনি টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো আমাকে চড় মারেন।
ভুক্তভোগী জান্নাত বেগম বলেন, স্বামীর মাছ ধরার জাল কিনব বলে ঋণ চেয়েছিলাম। ঋণ দেবেন বলে সমাজসেবা অফিসার পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছেন। এখন ঋণ দিচ্ছেন না। আমরা যে টাকা দিয়েছি তা ফেরত চাইলে আমাদের ওপর চড়াও হন। প্রথমে নাজমাকে থাপ্পড় মারতে থাকেন। আমি বাধা দিলে আমাকেও ধাক্কা দেন। দৌঁড়ে বাইরে বের হলে ওই অফিসার আমার বোরকা টেনে ধরেন।
অভিযুক্ত উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে এটা করা হয়েছে। আমি কোনো অপকর্মের সঙ্গে জড়িত নই। আমার স্টাফ শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে সে এসব নাটক সাজিয়েছে।
জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ বৈদ্য বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। তদন্তে সত্যতা পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুলাহ আল মামুন বলেন, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করতে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্য প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে প্রশাসকের বরাবর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখিত প্রতিবেদন পাঠানা হবে।