সাভার (ঢাকা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৩ ২০:২৩ পিএম
আপডেট : ১৮ মে ২০২৩ ২১:৩২ পিএম
নিখোঁজের ১০ দিন পর কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার। প্রবা ফটো
সাভারে আশুলিয়ায় নিখোঁজের ১০ দিন পর পুকুর থেকে এক কলেজছাত্রের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেছে র্যাব। এ ঘটনায় নিহতের তিন বন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ মে) দুপুরে আশুলিয়ার মোজারমিল ইস্টার্ন হাউজিং এলাকার একটি পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ফারাবি আহমেদ হৃদয় আশুলিয়ার জামগড়া গফুর মন্ডল স্কুলের সামনে এলাকার ফজলুল হকের ছেলে। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
র্যাব জানায়, ধনী হতে দীর্ঘদিন ধরে হৃদয়কে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করে আসছিল হত্যাকারীরা। ৮ মে জামগড়ার বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন হৃদয়। ঘটনার পরে ১১ মে আশুলিয়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে নিহতের পরিবার।
গ্রেপ্তার তিন আসামির মধ্যে একজন হলেন ময়েজ হোসেন পরান। তিনি মানিকগঞ্জের সদর থানার পশ্চিম দাসপাড়া গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে। আরেকজন বগুড়া জেলার সোনাতলা থানার মহেশপাড়া গ্রামের মো. তাহেরুল ইসলামের ছেলে মো. সুমন মিয়া ওরুফে বাপ্পি। তারা দুইজনেই নিহত হৃদয়ের প্রতিবেশী। শাহিনের পরিচয় জানা যায়নি।
হৃদয়ের মরদেহ উদ্ধারের পর সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৪ এর সিইও লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুর রহমান জানান, কলেজছাত্র ফারাবি আহমেদ হৃদয় নিখোঁজের একদিন পর তার মায়ের মুঠোফনে কল করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে হত্যাকারীরা। হৃদয়ের মোবাইল ফোন ব্যবহার করেই বিভিন্ন স্থান থেকে মুক্তিপণ চায় তারা। এ ঘটনায় ১১ মে আশুলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করে হৃদয়ের পরিবার। পরে র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে র্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, হত্যাকারী পরান, বাপ্পী, আকাশ ও শাহিন চারজনেই জামগড়া এলাকায় হৃদয়ের প্রতিবেশী বন্ধু। ধনী হতে দীর্ঘদিন ধরে হৃদয়কে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করে আসছিল তারা। গত ৮ মে রাতে জামগড়া এলাকায় বন্ধু পরান তার বাসার একটি কক্ষে হৃদয়কে আটকে রেখে তার পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে পরান, বাপ্পী, আকাশ ও শাহিন গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে হৃদয়কে। মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য তাকে বালিশচাপাও দেওয়া হয়। সেই রাতেই একটি ভ্যান চুরি করে হৃদয়ের মরদেহ বস্তায় ভরে শ্রীপুর এলাকায় নিয়ে যায় চার বন্ধু। এরপর মরদেহটি নির্জন স্থানে পুকুরে ফেলে দেয়। পানিতে মরদেহ যেন ভেসে না ওঠে, সে জন্য বস্তার সঙ্গে ইট বেঁধে দিয়েছিল তারা।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করার পর বুধবার রাতে সন্দেহভাজন পরানকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যে বৃহস্পতিবার দুপুরে আশুলিয়ার শ্রীপুরের একটি পুকুর থেকে হৃদয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাপ্পীকে টাঙ্গাইল থেকে ও মিরপুর থেকে শাহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আকাশ এখনও পলাতক রয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা ফজলুল হক আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।