লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতা হত্যা
লক্ষ্মীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৩ ১১:৪৩ এএম
আপডেট : ১৮ মে ২০২৩ ১২:৩২ পিএম
লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতা হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি কাশেম জিহাদী। ফাইল ফটো
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতির পদ থেকে আবুল কাশেম জিহাদীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে আওয়ামী লীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। জিহাদী আলোচিত যুবলীগ নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান ও ছাত্রলীগ নেতা রাকিব ইমাম হত্যা মামলার প্রধান আসামি।
বুধবার (১৭ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে চন্দ্রগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কাশেম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওহাব স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জিহাদীকে অব্যাহতির বিষয়টি জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, ‘নোমান ও রাকিব হত্যা মামলায় কাশেম জিহাদীকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তার কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। এতে তাকে চন্দ্রগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। একই সঙ্গে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।’
চন্দ্রগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কাশেম চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা হয়। সেখানে কাশেম জিহাদীকে বহিষ্কারের দাবি তোলা হয়। এরপর রাতে বহিষ্কারের প্রেস বিজ্ঞপ্তি ফেসবুকে পোস্ট করা হয়।
গত ২৫ এপ্রিল রাতে সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের পোদ্দারবাজার এলাকায় জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিব ইমামকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নোমান জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরদিন রাতে নোমানের বড় ভাই ও বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ জনকে আসামি করে চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এতে ১ নম্বর আসামি করা হয় সদ্য অব্যাহতি পাওয়া চন্দ্রগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবুল কাশেম জিহাদীকে। বাদী মাহফুজুর রহমান বরাবরই এ হত্যাকাণ্ডের জন্য জিহাদীকে সরাসরি দায়ী করে আসছেন।
এ ঘটনার পর জিহাদীকে বহিষ্কারের দাবি তোলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সচেতন মহল। তাকে বহিষ্কারের দাবিতে ঢাকা প্রেস ক্লাব ও লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধনও হয়েছিল।
চন্দ্রগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কাশেম চৌধুরী বলেন, ‘জিহাদীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছে। জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের (নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন) সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিলাম। তার সিদ্ধান্ত পেয়েই এখন চিঠি দিয়েছি।’