প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৩ ২৩:১২ পিএম
আপডেট : ১৩ মে ২০২৩ ১১:১২ এএম
মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল। সংগৃহীত ফটো
ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১২ মে) রাত ১১টা থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। রাত ১০টার পর জ্বালানি বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় : মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার ফলে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা অঞ্চলে শনিবার (১৩ মে) গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হবে। ঝড়ের পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ করা হবে। চট্টগ্রাম, মেঘনাঘাট, হরিপুর ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ/আংশিক চালু থাকতে পারে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সাময়িক এ অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, অতি দ্রুত গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হবে।
ঘূর্ণিঝড় মোখা মহেশখালী দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। মহেশখালীতে উপকূলের ৬ কিলোমিটারের মধ্যে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। দেশি সামিট এলএনজির পাশাপাশি অন্য এলএনজি টার্মিনালটি পরিচালনা করে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এলএনজি।
এ ছাড়া মহেশখালীতে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের রাষ্ট্রীয় একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। শিগগিরই কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট উৎপাদনে যাবে। সম্প্রতি কেন্দ্রটির জন্য ৬৩ হাজার টন কয়লা আনা হয়েছে।
এর ঠিক ১৮৪ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে দেশের বিদ্যুতের আরও একটি বড় হাব। পটুয়াখালীতে পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ছাড়াও আরপিসিএল ও নরিনকো একটি সমান ক্ষমতার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করেছে। এ কেন্দ্রর নির্মাণকাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
এ ছাড়া বরগুনার আমতলীতে ৩৬০ মেগাওয়াটের একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এ কেন্দ্রগুলোকে এবার ঝড়ের অগ্রভাগ মোকাবিলা করতে হবে। সাধারণত এ ধরনের কেন্দ্রে দুর্যোগ প্রস্তুতি থাকলেও বিদ্যুৎকর্মীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
জ্বালানি চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন অন্তত ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হয়। এলএনজি টার্মিনালগুলো সাইক্লোন মোকাবিলা করতে পারলেও ঝড়ের সময় এখানে কর্মীদের স্বাভাবিক অবস্থায় কাজ করা দুরূহ বলে জানা গেছে।