লক্ষ্মীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৩ ১০:৩৯ এএম
আপডেট : ১২ মে ২০২৩ ১১:১৯ এএম
লক্ষ্মীপুরে আলোচিত যুবলীগ নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান ও ছাত্রলীগ নেতা রাকিব ইমাম হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত এক আসামিসহ আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী একটি রিভলভার ও একটি পাইপগান উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের নামে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ মে) রাতে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাহফুজ্জামান আশরাফ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মামলার ১৫ নম্বর আসামি রাকিব হাসান ওরফে শুটার রাকিব ও মো. লিটন প্রকাশ চান মিয়া। লিটনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে।
রাকিব সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের বড়পাড়া গ্রামের সিরাজুল হকের ছেলে ও লিটন বশিকপুরের বাসিন্দা।
এ নিয়ে নোমান-রাকিব হত্যা মামলার ১৭ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। এর মধ্যে এজাহারনামীয় ১০ জন ও অজ্ঞাতনামা আসামি সাতজন।
এসপি বলেন, এই জোড়া হত্যা মামলায় র্যাব ও সিটিটিসি পুলিশকে সহযোগিতা করে আসছে। সিটিটিসি ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে শুটার রাকিবসহ লিটনকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে উপজেলার বশিকপুরে অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানকার একটি খাল থেকে দেশীয় তৈরি একটি রিভলভার ও একটি পাইপগান উদ্ধার করা হয়।
পরে দত্তপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন রাকিব-লিটনের নামে চন্দ্রগঞ্জ থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করেছেন।
প্রসঙ্গত, ২৫ এপ্রিল রাতে সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের পোদ্দারবাজার এলাকায় জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিব ইমামকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও মোবাইল নিয়ে যায়। গুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থল গিয়ে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেয়। চিকিৎসক সেখানে তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় পরদিন রাতে নিহত নোমানের বড় ভাই ও বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ জনকে আসামি করে চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এতে প্রধান আসামি করা হয় চন্দ্রগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবুল কাশেম জিহাদীকে।
মামলায় গ্রেপ্তার ৩ নম্বর আসামি ফয়সাল দেওয়ান ও ১৮ নম্বর আসামি কদু আলমগীর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।