ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৩ ১৯:৪৬ পিএম
আপডেট : ০৯ মে ২০২৩ ২০:০৩ পিএম
প্রচণ্ড গরমে ছাতা মাথায় চলছেন এক পথচারী। প্রবা ফটো
পাবনার ঈশ্বরদীতে বেড়েছে লোডশেডিং। দিন-রাত মিলে প্রায় ৫ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। তিন দিন ধরে বাড়তে শুরু করেছে তাপমাত্রা। ফলে দেখা দিয়েছে তীব্র গরম। একদিকে প্রখর রোদে ভ্যাপসা গরম, অন্যদিকে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। লোডশেডিং এখন এক অসহনীয় যন্ত্রণার নাম ঈশ্বরদী পৌরবাসীর কাছে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, এক সপ্তাহ ধরেই রোদের তাপমাত্রা বাড়ছে। গত রবিবার তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সোমবার ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার (৯ মে) তা বেড়ে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা কয়েক দিনের তুলনায় একটু বেশি। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না পেয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে স্থানীয় জনজীবন। একদিকে ফসলের মাঠে সেচ সমস্যা, অপরদিকে গরমের প্রভাবে ঈশ্বরদী হাসপাতালে বেড়েছে শিশু ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে জানান এলাকার বাসিন্দারা।
ঈশ্বরদী পূর্ব নুরমহল্লা এলাকার বাসিন্দা তুষার ইসলাম জানান, ৪-৫ দিন ধরে খুবই কষ্টে আছি। তীব্র গরমে ঘন ঘন লোডশেডিং, জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। প্রতিদিন ৬-৭ বার বিদ্যুৎ চলে যায়। একবার গেলে আধাঘণ্টা-একঘণ্টা আসে না। বিদ্যুৎ না থাকায় পানির মোটর চালানো সম্ভব হচ্ছে না। বাড়ির ৯০ শতাংশ কাজ বিদ্যুৎয়ের ওপর নির্ভরশীল। ফলে যোগ হচ্ছে পানির বাড়তি ভোগান্তি।
ঈশ্বরদী ইস্তা এলাকার কৃষক আনিসুর রহমান আদম বলেন, ‘একদিকে কৃষিজমিতে পানি সংকট, অন্যদিকে দিন-রাত মিলে ৭-৮ বার লোডশেডিংয়ে প্রায় ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জমিতে সঠিক সময়ে পানি সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে ধানের নতুন শীষ মরে যাচ্ছে। কৃষিজমিতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।’
ঈশ্বরদী তায়য়িবি গ্রুপের পরিচালক কাওসার আহমেদ জানান, প্রতিদিন লোডশেডিংয়ে প্রায় ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। আমার দুটি ফ্যাক্টরিতে প্রতিদিন ৪০ জন শ্রমিক ৮ ঘণ্টা কাজ করে। ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সঠিক মাত্রার উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। যার ফলে নিয়মিত গুনতে হচ্ছে লোকসান।
জানতে চাইলে নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি পিএলসি (নেসকো) ঈশ্বরদী অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুন নূর বলেন, ‘চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। পাশাপাশি ঈশ্বরদী জয়নগর পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল থাকায় এমন লোডশেডিং সৃষ্টি হচ্ছে।’ তবে কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে জানাতে পারেননি তিনি।
পিজিসিবির নির্বাহী প্রকৌশলী এনায়েত করিম বলেন, ‘একটি ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ায় এমন লোডশেডিং হচ্ছে। বিকল হওয়া ট্রান্সফরমার মেরামতের কাজ চলছে। শিগগিরই লোডশেডিং সমস্যা নিরসন হবে।’