রূপগঞ্জে স্টিল মিলে বিস্ফোরণ
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৩ ২৩:২৮ পিএম
আরআইসিএল (রহিম ইন্ডাস্ট্রিয়াল লিমিটেড) স্টিল মিল। প্রবা ফটো
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা এলাকায় আরআইসিএল (রহিম ইন্ডাস্ট্রিয়াল লিমিটেড) স্টিল মিলে লোহা গলানোর সময় বিস্ফোরণে শংকর সাহা নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া দগ্ধ হয়েছেন আরও ছয়জন। আহতদের উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
বৃহস্পতিবার (৪ মে) বিকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। শংকর সাহার গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাট জেলায়।
দগ্ধরা হলেন- মো. ইলিয়াস, মো. ইব্রাহিম, নিয়ন, জুয়েল মিয়া, রাব্বি হোসেন ও আলমগীর হোসেন। তাদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও মিলের শ্রমিকরা জানায়, ৩ মাস আগে কারখানাটি চালু করা হয়। প্রাথমিকভাবে কারখানাটিতে ২০-২৫ জন শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কারখানায় কোনো অগ্নিনির্বাপণ সামগ্রী রাখা হয়নি। এ ছাড়া এ ধরনের ঝুকিপূর্ণ কাজ করার জন্য শ্রমিকদের দেওয়া হয়নি কোনো সুরক্ষা সামগ্রী। এতোদিন শ্রমিকরা ঝুঁকি নিয়েই কারখানাটিতে কাজ করে যাচ্ছিল। শ্রমিকরা নানা সময়ে মালিকপক্ষকে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও সুরক্ষা সামগ্রী দেওয়ার কথা বলে আসছিল। কিন্তু মালিকপক্ষ তাদের দাবি মানেনি।
অন্যদিনের মতো বৃহস্পতিবার দুপুরেও ঝুঁকি নিয়ে শ্রমিকরা কারখানার বাট্টিতে লোহা গলানোর কাজ করছিলেন। গলিত লোহার বাট্টিতে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ও আগুন জলে উঠে। এতে শংকর সাহার মৃত্যু এবং আরও ৬ শ্রমিক গুরুতর দগ্ধ হন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানান, দগ্ধ অবস্থায় সাতজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেছেন। অন্যদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিলের কয়েকজন শ্রমিক জানান, এখন পর্যন্ত মিলটি পুরোপুরি চালু হয়নি। তবে মাঝে মাঝে পরীক্ষা করার জন্য কিছু সময়ে জন্য চালু করা হতো। সেখানে শ্রমিকরা যে ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জামাদি ব্যবহার করার কথা সেখানে কোনটাই ব্যবস্থা করা হয়নি। নেই অগ্নিনির্বাপক কোনো ব্যবস্থা।
খবর পেয়ে আড়াইহাজার ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থল আসে। দলের সাব-অফিসার শহীদ আলম বলেন, বিকাল ৩টায় ঘটনা ঘটলেও পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসকে তারা অনেক পরে জানায়।
মিলের স্টোরম্যান মামুন মিয়া বলেন, কারখানাটি পুরোপুরি এখনো চালু করা হয়নি। এটি উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। মাঝে মাঝে পরীক্ষা করার জন্য সাময়িক কিছুক্ষণের জন্য চালু করা হতো। আজকেও ৮-৯ জন শ্রমিক দিয়ে কিছু সময় চালু করা হয়। এ সময় হঠাৎ এই ঘটনাটি ঘটে।
রূপগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আতাউর রহমান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত শংকর নামে একজন মারা গেছেন। আরও ছয় জন দগ্ধ হয়েছেন বলে সংবাদ পেয়েছি। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’