কুমিল্লা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৩ ২২:৪৪ পিএম
আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৩ ২৩:৪৫ পিএম
বাবা-মায়ের সাথে কনটেইনারে মালয়েশিয়ায় যাওয়া বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী রাতুল ইসলাম ফাহিম। প্রবা ফটো
চট্টগ্রাম থেকে কন্টেইনারে করে মালয়েশিয়ায় যাওয়া বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী সেই রাতুল ইসলাম ফাহিম মারা গেছে। শনিবার (২৯ এপ্রিল) বাড়ির পাশের একটি পুকুরে ডুবে তার মৃত্যু হয়।
রাতুল কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ঝলম দক্ষিণ ইউনিয়নের সাতপুকুরিয়া গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে।
রাতুলের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর আড়াইটার দিকে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে গোসল করতে নামে রাতুল। এসময় পানিতে ডুব দিয়ে আর উঠতে পারেনি সে। কিছুক্ষণ পর আশপাশের লোকজন তার মরদেহ পুকুরে ভাসতে দেখে। সেখান থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের নিকট নিয়ে গেলে রাতুলকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
রাতুলের বাবা ফারুক মিয়া জানান, রাতুল প্রতিবন্ধী। সে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিল। কন্টেইনারে করে মালয়েশিয়া যাওয়ার আগেও বাড়িতে আগুনে তার হাত-পা পুড়ে গিয়েছিল। ওই সময় অর্থসংকটের কারণে তাকে ভালোভাবে চিকিৎসা করাতে পারেননি। দেশে ফেরার পরও সে বেশ অসুস্থ ছিল।
স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান হিরণ জানান, রাতুলের দাফনের জন্য আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে। প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ময়নাতদন্তে ছাড়াই রাতে তার মরদেহ দাফন করা হয়েছে।
গত বছরের ১৩ নভেম্বর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় রাতুল। গত ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া ‘এমভি ইন্টেগ্রা’ জাহাজের একটি খালি কনটেইনার মালেশিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ১৬ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার কেলাং বন্দরে জাহাজের একটি খালি কনটেইনারের ভেতর থেকে মানুষের শব্দ শুনতে পান নাবিকরা। এরপরই কেলাং বন্দর কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয়। ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় জাহাজটি জেটিতে এনে কনটেইনার খুলে ওই কিশোরকে উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে টিভিতে প্রচারিত ছবি ও ভিডিও দেখে রাতুলকে শনাক্ত করে পরিবারের সদস্যরা। বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় রাতুল।