পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৩ ২২:৪৫ পিএম
আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৩ ২২:৫৪ পিএম
পটিয়ায় বালুর বদলে মাটি কেটে ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রবা ফটো।
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় বালুমহালের ইজারা নিয়ে কাটছিল মাটি। তা-ও আবার ইজারার নির্ধারিত স্থানে না কেটে সুবিধামতো অন্য স্থান থেকে।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে মাটি কাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার খরনা ইউনিয়নের পারিগ্রামে বালুমহালের বদলে মাটি কেটে নিচ্ছিলেন ইজারাদার। ওই গ্রামের বাসিন্দারা জানান, গ্রাম রক্ষায় কয়েক বছর আগে শ্রীমাই খালের মূল খাল খনন করা হয়। এর ফলে পারিগ্রাম ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পায়। কিন্তু আসন্ন বাংলা বছরের জন্য পারিগ্রামের শ্রীমাই খালের একাংশের ইজারা দেয় জেলা প্রশাসকের দপ্তর। ইজারাদার শর্তমোতাবেক নির্ধারিত স্থান থেকে বালু উত্তোলন না করে খালের অন্য অংশের পাশের কৃষিজমির মাটি কাটছিল।
দীপক সূত্রধর নামে এক বাসিন্দা জানান, শ্রীমাই খালের পানির ঢলে পারিগ্রামটি প্রায় ৯০ ভাগ বিলীন হয়ে গিয়েছিল। কয়েক বছর আগে বাঁধ দেওয়ায় গ্রামের অবশিষ্ট অংশ রক্ষা পায়। পলি পড়ে ভরাট হতে শুরু করে। উপজেলা ভূমি অফিস থেকে প্রবহমান খাল দেখিয়ে পারিগ্রাম ও লট শ্রীমাই এলাকার মোট ১১ দশমিক ৩ একর খালের ইজারা দেওয়া হয়। তাতে মনগড়া চৌহদ্দি উল্লেখ করা হয়। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইজারার স্থান বাদ দিয়ে অন্য স্থান থেকে এক্সকাভেটর মেশিন দিয়ে মাটি কাটছিলেন ইজারাদার। যদিও শর্তমোতাবেক এক্সকাভেটর ব্যবহারেরও কোনো সুযোগ নেই।
ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার রণদাশ জানান, পারিগ্রাম মৌজা হলেও ইজারা নেওয়া খালের অবস্থান একেবারে পাহাড়ি এলাকায়, পারিগ্রামের পূর্ব দিকের শেষ প্রান্তে। নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও বালু তোলার সুযোগ নেই। মাটি তো কাটাই যাবে না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইজারাদার রফিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না বলে কল কেটে দেন।
ইউএনও রাকিবুল ইসলাম জানান, গ্রামের মানুষের প্রতিবাদের মুখে শ্রীমাই খালের ইজারা দেওয়া হয়নি। তহসিলদারের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইজারা দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রবহমান খাল না থাকলে ইজারা দেওয়ার বিধান নেই। তিনি বলেন, ইজারাদারকে সতর্ক করা হয়েছে। রবিবার পর্যন্ত মাটি কাটা বা বালু উত্তোলন করা যাবে না। ইজারার স্থান চিহ্নিত করে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তখন নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে থেকে বালু কাটতে পারবেন না। আর মাটি কাটার তো অনুমতিই নেই। নিয়মের বাইরে গেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।