ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৩ ১৫:২৩ পিএম
আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৩ ১৬:৪৩ পিএম
দিনাজপুর থেকে নওগাঁ ও নাটোরে ধান কাটার কাজ করতে যাচ্ছেন এক দল কৃষক। প্রবা ফটো
'আমরা কৃষক মানুষ। কৃষিকাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করি। ধান কেটে মাড়াই করি, গোলায় তুলে দেই। দিনাজপুর জেলায় এখনও পাকেনি জমির ধান। তাই এখানে কোনো কর্ম নাই। কাজের সন্ধানে সঙ্গীদের নিয়ে যাচ্ছি তাই নওগাঁ, নাটোরের দিকে। পেটের দায়েই আপন ভিটা ছেড়ে যাই বহুদূর। এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন পার্বতীপুর উপজেলার কৃষিশ্রমিক মোসলেম উদ্দিন।
তিনি বলেন, এই সময়ে দিনাজপুরে কৃষিশ্রমিকদের কোনো কাজ নেই। এজন্য বেকার হয়ে বাড়িতে বসে থেকে সময় পার করছি। এভাবে বাড়িতে বসে না থেকে নওগাঁ, নাটোর, বগুড়ার যেসব এলাকায় ধান পেকেছে সেসব এলাকায় ধান কাটতে যাওয়ার জন্য আমরা স্টেশনে অপেক্ষা করছি।
শুক্রবার (২৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফুলবাড়ী রেল স্টেশনে বগুড়ার সান্তাহার এলাকায় ধান কাটতে যাওয়ার জন্য প্লাটফর্মে অপেক্ষা করা একদল শ্রমিকের সঙ্গে প্রতিদিনের বাংলাদেশের প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয়।
জানা গেছে, এ দলে দশজন কৃষক রয়েছেন। যার দলনেতা মোসলেম উদ্দিন। এ কৃষকদলে অন্যরা হলেন- শহিদুল ইসলাম, তোজাম্মেল হক, রেজাউল ইসলাম, আফজাল হোসেন, শরিফুল ইসলাম, রমজান আলী, আব্দুল মজিদ, সাদেকুল ইসলাম ও সৈয়দ আলী।
আফজাল হোসেন ও তোজাম্মেল হক জানান, প্রথম পর্যায়ে কৃষিশ্রমিক দলটি সান্তাহার যাবেন এবং সেখান গিয়ে খোঁজ নেবেন কোন এলাকায় ধান কাটার কাজ বেশি পাওয়া যাবে। সান্তাহার থেকে নওগাঁ ও নাটোর জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধান কাটা হবে।
তারা আরও জানান, এসব এলাকায় ধান কাটতে কাটতে নিজ এলাকার জমির ধান এ সময়ে পেকে যাবে। তখন সবাই নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে ধান কাটা ও মাড়াই করবেন।
কৃষিশ্রমিক রেজাউল ইসলাম বলেন, 'আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, সান্তাহার, নওগাঁ ও নাটোর এলাকায় এক বিঘা জমির ধান কাটতে মজুরি পাওয়া যায় চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। এমন মজুরি পাওয়া গেলে লাভবান হওয়া যাবে।'
আন্তঃনগর ট্রেনে যাতায়াত করলে ভাড়া বেশি পড়ে সে কারণে তারা সরকারি খাতের মেইল ও লোকাল ট্রেনকেই যাতায়াতের বাহন হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
জানা গেছে, ইতোমধ্যেই ফুলবাড়ী উপজেলাসহ আশপাশের উপজেলা থেকে দক্ষিণের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ধান কাটতে তিন শতাধিক কৃষিশ্রমিক গেছেন। ১০ থেকে ১৫ জনের এক-একটি দল হিসেবে গেছেন শ্রমিকরা। তবে স্থানীয়ভাবে ধান কাটাই-মাড়াই শুরু হলে এসব শ্রমিকের সকলেই নিজ এলাকায় ফিরে এসে ধান কাটাই-মাড়াইয়ের কাজে হাত দেবেন।
উপজেলার চিন্তামন এলাকা থেকে ১৪ জনের এক-একটি দল হিসেবে তিন দলে ৪২ জন শ্রমিক ধান কাটতে গেছেন দক্ষিণে। একইভাবে আটপুকুর থেকে ২৮ জন, পুটকিয়া এলাকা থেকে ৫৫ জনসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিক যাচ্ছেন দক্ষিণের জেলাগুলোতে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার বলেন, ‘ফুলবাড়ী এলাকার বোরো ধান পুরোপুরি পাকতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ দিন লেগে যাবে। ধান না পাকার জন্যই কৃষিশ্রমিকরা এ সময়টুকুতে বেকার হয়ে রয়েছেন। স্থানীয়ভাবে ধান কাটা শুরু হলে সব শ্রমিকই আবার এলাকায় ফিরে আসবেন। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হওয়া এবং রোগবালাই কম হওয়ায় বোরো ধানের এবার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।’