দিনাজপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৩ ১৩:১৫ পিএম
ফাইল ছবি
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যানের শালবনে প্রায় প্রতিবছর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও কারণ জানা নেই বন বিভাগের। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার কয়েক দফার আগুনে ৭ একর বন ক্ষতিগ্রস্তের ঘটনায়ও বরাবরের মতো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত উদ্যানের শালবনে বিভিন্ন স্থানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। প্রায় ৭ ঘণ্টার ব্যবধানে কয়েক দফায় আগুনে পুড়ে গেছে বনের বাঁশ বেত, ঔষধিসহ বেশ কিছু ছোট-বড় গাছ।
নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যান রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রথমে দুপুর ১২টার দিকে বিট অফিসের পাশে আগুন লাগে। স্থানীয়রা পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়। তারা এসে আগুন নেভায়।
নবাবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত টিম লিডার মো. জহুরুল ইসলাম জানান, বেলা ৩টা ১৫ মিনিটে বনে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সন্ধ্যায় ফের আগুন লাগার খবর পাওয়া গেলে ফায়ার সার্ভিস পুনরায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আগুন লাগার কারণ জানতে চাইলে জহুরুল ইসলাম বলেন, আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রচণ্ড গরম এবং বৃষ্টি না হওয়ায় বন শুকিয়ে গেছে। ফলে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে যায়। তবে নবাবগঞ্জ বিট কর্মকর্তা মো. খায়রুল ইসলাম জানান, আগুন লেগে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বনের বেতবাগান। এ ছাড়া কিছু চারাসহ প্রায় ৭ একর বন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে নেশাগ্রস্ত বা বখাটেরা আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে।
সামাজিক বন বিভাগ-দিনাজপুরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বশিরুল-আল-মামুন জানান, ‘ঘটনা জানার পর আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি। ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়েছি। আগুন লাগার বিষয়টি কীভাবে ঘটল, তা ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
চট্টগ্রাম বনবিদ্যা ও বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মো. রোকনুজ্জামান ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেছেন। শালবনের পাশেই তার বাড়ি। তিনি বলেন, এই মৌসুমে প্রতিবছরে বনে আগুন লাগে। বন বিভাগের অবহেলায় বনের গহিনে অসংখ্য গাছপালা পুড়ে বন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।