কক্সবাজার অফিস
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৩ ১৪:৩২ পিএম
আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৩ ১৪:৩৩ পিএম
কক্সবাজারে তীব্র দাবদাহ উপেক্ষা করে সামুদ্রিক লোনাপানি থেকে লবণ উৎপাদনে চাষিদের ব্যস্ততা। প্রবা ফটো
তীব্র দাবদাহে লবণ চাষে এখন সুবাতাস বইছে। আগে সামুদ্রিক লোনা পানি মাঠে এনে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে লবণ উৎপাদন হতে সময় লাগত এক সপ্তাহ, সে লবণ এখন চাষিরা পাচ্ছেন মাত্র তিন দিনে।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে উপকূলের ৬৬ হাজার ২৯১ একর জমিতে লবণ উৎপাদন হচ্ছে। এসব জমিতে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন।
গেল ৩ মাসে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৯ মেট্রিক টন লবণ। দৈনিক রেকর্ড ৩৬ হাজার মেট্রিক টন লবণ উৎপাদন হচ্ছে। লবণ উৎপাদনে ৪৫ হাজার প্রান্তিক চাষি জড়িত।
মাঠপর্যায়ে প্রতি মণ লবণ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা কিন্তু এতে সন্তুষ্ট নন প্রান্তিক চাষিরা। কারণ মধ্যস্বত্বভোগী দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যে অনেকটা অসহায় এসব প্রান্তিক চাষি। তাদের দাবি, জমি থেকে শুরু করে মাঠ তৈরি, পলিথিন ক্রয় ও লবণ বিক্রি- সবকিছুতে মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে জিম্মি তারা।
কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের লবণ মাঠে কথা হয় প্রান্তিক চাষিদের সঙ্গে। তাদের একজন আবদুল গফুর, যিনি গত ৪০ বছর ধরে মাঠ বর্গা নিয়ে লবণ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত।
তিনি জানান, এক বছর চুক্তিতে জমি বর্গা নিয়ে লবণ উৎপাদন করতে হয়। কিন্তু জমির প্রকৃত মালিকদের কাছ থেকে জমি বর্গা নেয়ার সুযোগ তারা পান না। একটি সংঘবদ্ধ চক্র জমির প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে গোপনে জমি বর্গা নিয়ে নেয়। দালালদের কাছ থেকে জমি একরপ্রতি ৩৫-৫০ হাজার টাকায় বর্গা নিতে হয়। প্রকৃত মালিকদের কাছ থেকে নেয়া সম্ভব হলে এটা হতো একরপ্রতি ২৫-৩০ হাজার টাকার মধ্যে। জমি বর্গা নেয়ার পর মাঠের জন্য পলিথিন কিনতে হয়, তাও কিনতে হচ্ছে দালালদের কাছ থেকে। পলিথিনের প্রতি কেজি বাজারে বিক্রি হয় ১২০ টাকা কিন্তু দালালদের কাছ থেকে কিনতে হয় কেজিপ্রতি ১৫০ টাকায়।
আবদুল মালেক নামে অপর এক চাষি জানান, মাঠে উৎপাদিত লবণও সরাসরি মিল মালিকদের কাছে বিক্রি করার সুযোগ নেই। বিক্রি করতে হয় দালালদের কাছে। মিল মালিকরা লবণ মণপ্রতি ৫০০ টাকায় ক্রয় করেন কিন্তু চাষিরা পান ৪০০ টাকা। এক্ষেত্রে প্রতি মণে ১০০ টাকা দালালরা পান।
শুধু চৌফলদন্ডী ইউনিয়ন নয়, কক্সবাজারের মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, চকরিয়া, ঈদগাঁওসহ সব লবণ মাঠ এভাবে নিয়ন্ত্রণ করে একটি সংঘবদ্ধ দালাল সিন্ডিকেট। তাবে আশার কথা হলো, ইতোমধ্যে বিসিক লবণ নিয়ে সৃষ্ট দালাল চক্রের ৬০০ মধ্যস্বত্বভোগী শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
কক্সবাজার চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা জানান, ‘লবণে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। এখানে প্রান্তিক চাষিদের ঘিরে একটি চক্র বারবার অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এটা কখনও জমি বর্গা নিয়ে, কখনও পলিথিন বা লবণ বিক্রি করে। এসব বন্ধ করে প্রান্তিক চাষিরা সরাসরি জমি বর্গা নেয়া, পলিথিন ক্রয় এবং লবণ বিক্রি করতে পারলে আরও বেশি লাভবান হবেন।’
বিসিক কক্সবাজারের উপমহাব্যবস্থাপক জাফর ইকবাল ভূঁইয়া বলেন, ‘লবণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্বত্বভোগী নামে একটি দালাল চক্র তৎপর। ৬০০ মধ্যস্বত্বভোগী শনাক্ত করে তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। দালাল চক্র বন্ধ করা সম্ভব হলে প্রান্তিক চাষিরা অনেক বেশি লাভবান হবেন।’