কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৩ ১৮:০৫ পিএম
আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৩ ১৮:২৩ পিএম
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ওপর হাটবাজার। প্রবা ফটো
দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোর মধ্যে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অন্যতম। সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়ায় এখন স্বস্তির মহাসড়ক এটি। তবে মহাসড়কের ওপর থেকে হাটবাজার, থ্রি-হুইলার ও ফুটপাথের অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ না করা হলে এবার ঈদযাত্রায় ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন চালক ও যাত্রীরা। ভোগান্তি লাঘবে অবৈধ হাটবাজার, দোকানপাট, থ্রি-হুইলার ও বিভিন্ন যানবাহনের স্টেশন উচ্ছেদ করে মহাসড়কটি দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ওপর দিয়ে নির্মিত হয়েছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কটি। একসময়ের যানজট আর দুর্ভোগের মহাসড়ক ছিল এটি। মহাসড়কের কালিয়াকৈর অংশে সবচেয়ে বেশি যানজট দেখা যায় ঈদ, পূজাসহ জাতীয় বিভিন্ন দিবসের ছুটির দিনগুলোতে। বিপুল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হলেও ফলাফল আশানুরূপ ছিল না।
দুর্ভোগ সহ্য করেই উত্তরবঙ্গের ২২ জেলার যানবাহন এ পথে রাজধানীতে চলাচল করে আসছিল। তবে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়ায় অনেকটাই বদলে গেছে এ মহাসড়কের চেহারা। ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে মহাসড়কের দুপাশে সার্ভিস রোডসহ ফুটপাথ নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে ২-৩ বছর ধরে এ মহাসড়কে স্বস্তিতে যাতায়াত করে আসছে ঘরমুখী মানুষ। অথচ এ মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড়কে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বলা হলেও প্রতি রবিবার সেখানে হাট বসে। এ ছাড়া উপজেলার মৌচাক, সফিপুর, পল্লী বিদ্যুৎ, চন্দ্রা ত্রিমোড়, বোর্ডঘর ও চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের বাড়ইপাড়া এলাকায় মহাসড়কের ওপরে গড়ে উঠেছে ভ্রাম্যমাণ হাটবাজার। বিভিন্ন স্থানে দুপাশে ফুটপাথ ও ফুটওভার ব্রিজের দুপাশ দখল করে বসেছে দোকানপাট।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অটোরিকশা, সিএনজি, মাহিন্দ্রসহ বিভিন্ন অবৈধ যানবাহন। এসব যানবাহনের স্টেশনও মহাসড়কের ওপরেই। এসব থেকে প্রতিনিয়ত ও মাসিক চাঁদা হাতিয়ে নিচ্ছে সরকারদলীয় অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতাকর্মী। চাঁদা দিয়ে দাপটের সঙ্গে হাটবাজার ও দোকানপাট করছেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতারাও ওই সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে ঝুঁকি নিয়ে কেনেন পণ্য। মাসোয়ারা দিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ থ্রি-হুইলারও।
অপরদিকে একাধিক স্থানে সার্ভিস রোডের ওপর প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কারখানার মালবাহী কাভার্ড ভ্যান ও বালু রেখে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়ী চক্র। এসবের কারণে মহাসড়কটি সংকুচিত হয়ে বিভিন্ন স্থানে জটলা সৃষ্টি হচ্ছে, প্রায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনাও।
আর কয়েক দিন পরেই পবিত্র ঈদুল ফিতর। এখনও মহাসড়কের এসব নানামুখী সমস্যার সমাধান করা হয়নি। এসব হাটবাজার, দোকানপাট, থ্রি-হুইলার, যানবাহন স্টেশন উচ্ছেদ করা না হলে এবার ঈদযাত্রায় স্বস্তির মহাসড়কটি অস্বস্তিতে পরিণত হবে। এ ছাড়া যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, এলোমেলো যাত্রী ওঠানামা, মহাসড়ক ঘেঁষে ময়লার স্তূপের কারণে অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে সরকারের উন্নয়ন। এসব সমস্যা সমাধান না হলে এবার ঈদে দুর্ভোগের আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্টরা। ঈদে ঘরমুখী মানুষের চাপে ও নানামুখী সমস্যার কারণে এ মহাসড়কে দুর্ভোগ বাড়বে বলেও জানান স্থানীয়রা। তবে দুর্ভোগ লাঘবে মহাসড়কটি দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা।
মহাসড়কে এসব নানামুখী সমস্যা থাকার বিষয়টি স্বীকার করে সালনা (কোনাবাড়ি) হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা উদ্যোগ নিচ্ছি আজ-কালকের মধ্যেই উচ্ছেদের মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান করার। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরলস পরিশ্রমে গত ঈদের মতো এবার ঈদেও নির্বিঘ্নে ও স্বস্তিতে ফিরবে ঘরমুখী মানুষ।’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ বলেন, ‘মহাসড়কের এসব সমস্যার বিষয়গুলো নিয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানের পর আশা করছি এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে।’