বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৩ ১৯:০৮ পিএম
পাঁচ বছর বয়সে সাপ খেলা দেখিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করছে হযরত। প্রবা ফটো
গলায় পেঁচানো দুই সাপ। আবার কখনো সাপের একাশে মুখে ঢুকানো। এভাবে নানান ভঙ্গিতে খেলা দেখাচ্ছিল ৫ বছর বয়সী মো. হযরত। শত-শত মানুষ তা উপভোগ করে। করতালিতে মুখর হয়ে উঠে পরিবেশ।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩০ উপলক্ষে শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় বগুড়া পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে এই সাপ খেলার আয়োজন করা হয়। মূলত সাপুড়ে বাবা আলাল শেখের এতে অংশ নেয় হযরত।
এ সময় দেখা যায়, ওস্তাদ বাবার সঙ্গে নেচে-গেয়ে শিশু হযরত দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন। তাদের কাছে পাঁচটি বাক্স। দুইটিতে গোমা ও তিনটিতে দারাজ৷ মাছুয়াল প্রজাতির সাপ রাখা ছিল। এসব সাপ দিয়েই বিভিন্ন কলাকৌশল দেখাচ্ছিলেন সাপুড়ে আলাল। তার ৫ বছর বয়সী ছেলের খেলা দেখানোর ব্যাপারটি দর্শকদের মনে সবচেয়ে বেশি দাগ কাটে। হযরত এক সঙ্গে দুইটি সাপ গলায় পেঁচিয়ে খেলা দেখায়। এমনকি খেলার এক পর্যায়ে সাপের মুখ নিজের মুখের মধ্যে নিয়ে দর্শকদের চমকে দেয়।
বগুড়ার শেরপুরের গাড়িদহ এলাকার সাপুড়ে আলাল শেখ বলেন, ‘আমি ১৭ বছর বয়স থেকেই সাপের খেলা দেখাই। বলতে পারেন তখন থেকেই সাপ নিয়ে সাধনা শুরু করি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাপ খেলা দেখানো যেন নেশা হয়ে যায়। সেই নেশায় সময়ের ব্যবধানে পেশা হয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমার ৫ ছেলের মধ্যে চার ছেলেই সাপ খেলায় আমাকে সহযোগিতা করে। হযরতকে দুই বছর বয়স থেকেই সাপের খেলা দেখানোর কৌশল শেখানো শুরু করি। এখন সে আমার সঙ্গে সাপ খেলা দেখাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ায়। এই সাপ খেলা দেখানোর আয় দিয়ে আমার সংসার চলে।’
এদিকে নববর্ষ উপলক্ষে এদিন সকার সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক পদক্ষিণ করে। এতে জেলা প্রশাসন, পুলিশসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। শোভাযাত্রা শেষে বগুড়া শহীদ খোকন পার্কে দুই দিনব্যাপী লোকজ মেলার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, জেলা পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী, বগুড়া সিভিল সার্জন ডা. মো. শফিউল আজম, জেলার সাবেক মুক্তযোদ্ধা কমান্ডার রুহুল আমিন বাবলু।