× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চৈত্রসংক্রান্তির উৎসবে মেতেছে বগুড়া

বগুড়া অফিস

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৩ ১৬:৩৮ পিএম

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২৩ ১৭:০৩ পিএম

চৈত্রসংক্রান্তির মেলা উপলক্ষে বগুড়ার আদমদীঘির চড়কতলায় বসতে শুরু করেছেন দোকানিরা। প্রবা ফটো

চৈত্রসংক্রান্তির মেলা উপলক্ষে বগুড়ার আদমদীঘির চড়কতলায় বসতে শুরু করেছেন দোকানিরা। প্রবা ফটো

চৈত্রসংক্রান্তি এবং পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা সদরের চড়কতলায় শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) থেকে দুই দিনের মেলা শুরু হচ্ছে। চিরায়ত প্রথা অনুযায়ী প্রথম দিন হবে চড়ক মেলা এবং পরদিন শনিবার হবে বউ মেলা। ওই দুটি মেলাকে ঘিরে ২০ চৈত্র থেকে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এ ছাড়া মেলা ঘিরে নববধূরা জামাইসহ তাদের বাবার বাড়িতে নাইওর এসেছেন।

স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, চড়কতলায় প্রায় আড়াই বিঘা জমির ওপর পাশাপাশি নির্মিত কালী মন্দির, শিব মন্দির, শীতলা মন্দির, বৃক্ষশ্বরী মন্দির এবং মহলদার মন্দির প্রাঙ্গণজুড়ে প্রায় ৭০০ বছর আগে চড়ক মেলা ও বউ মেলা শুরু হয়।

প্রাবন্ধিক ও কথা সাহিত্যিক বজলুল করিম বাহার জানান, অতীতে বগুড়ার একাধিক জায়গায় চৈত্রসংক্রান্তি এবং বৈশাখী মেলা হতো। মেলাগুলোতে পাতা খেলার পাশাপাশি ঘোড়দৌড় হতো। কালক্রমে সেই আয়োজনগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে এখন পর্যন্ত আদমদীঘির চড়ক মেলা এবং গাংনগরের বৈশাখী মেলা টিকে আছে। এর সঙ্গে বগুড়া থিয়েটারের আয়োজনে শহরকেন্দ্রিক বৈশাখী মেলার যে প্রচলন শুরু হয়েছে, সেটিও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

চৈত্রসংক্রান্তি এবং বৈশাখের প্রথম দিনের উৎসবের বর্ণনা দিতে গিয়ে আদমদীঘির চড়ক মেলার আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য মিহির সরকার বলেন, ‘চৈত্র মাসের শৈষ দিনকেই চৈত্রসংক্রান্তি বলা হয়। বাংলা বছরের শেষ মাসের শেষ দিন হওয়ায় ওই দিনটিকে সংক্রান্তির দিন বলা হয়। একসময় বাংলায় প্রতিটি ঋতুরই সংক্রান্তির দিনটি উৎসবের আমেজে পালন করা হতো। তবে কালের বিবর্তনে সেগুলো হারিয়ে গেছে। এখন সংক্রান্তির দুটি উৎসবকে পালন করা হয়। তার একটি চৈত্রসংক্রান্তি ও অপরটি পৌষসংক্রান্তি।’

শুক্রবার বগুড়ার আদমদীঘির চড়কতলায় চড়কপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রবা ফটো 

চৈত্র ও বৈশাখ মাসের নামকরণ প্রসঙ্গে পুরাণের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘সাতাশটি নক্ষত্রের নামে দক্ষ রাজ সুন্দরী কন্যাদের নামকরণ করেছিলেন। তার দুই কন্যার মধ্যে একজনের নাম ছিল চিত্রা এবং অন্যজন বিশাখা। এক মাসের ব্যবধানে জন্ম বলে এই দুই কন্যার নাম থেকে বাংলা দুই মাস চৈত্র এবং বৈশাখের জন্ম। চৈত্রের শেষ আর বৈশাখের শুরুতে বাঙালির সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ উৎসব পালিত হয় এই দুই দিনে।’

চড়কতলা মন্দির কমিটির সিনিয়র সদস্য কাঞ্চন সরকার জানান, সরকারিভাবে শুক্রবার পহেলা বৈশাখ পালন করা হলেও সনাতনী পঞ্জিকা অনুসারে এ দিন চৈত্রসংক্রান্তি। পরদিন শনিবার থেকে বৈশাখ শুরু হবে।

তিনি বলেন, ‘চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে অন্যান্য বছরের মতো এবারও ২০ চৈত্র মন্দিরে ঘটস্থাপন পূজার মাধ্যমে সংক্রান্তি উৎসবের মূলপর্ব শুরু হয়েছে। ২৪ চৈত্র পর্যন্ত ঘটস্থাপন পূজা করা হয়। ২৫ চৈত্র (রবিবার) ফুলভাঙ্গান পূজা, ২৬ চৈত্র (সোমবার) নাগরাকাটা পূজা, ২৭ চৈত্র (মঙ্গলবার) কালী পূজা ও ভড়ন খেলা, ২৮ চৈত্র (বুধবার) শ্মশান খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৯ চৈত্র (বৃহস্প্রতিবার) সকাল থেকে একে একে পাঁচটি মন্দিরে পূজা করা হচ্ছে। রাতে প্রতিটি মন্দিরে পাঁঠা বলি দেওয়া হবে। ৩০ চৈত্র (শুক্রবার) হবে চড়ক পূজা বা মেলা। এজন্য ওই দিন বিকালে লম্বা গাছের খুঁটিতে বাঁশ বেঁধে দড়ি ঝুলিয়ে চড়ক গাছ তৈরি করে মানুষের পিঠে বড়শি ফুটিয়ে চড়ক ঘুরানো হবে।

কাঞ্চন সরকার জানান, চড়ক হিসেবে নির্বাচিত মানুষের পিঠে বড়শি ফুটানোসহ তান্ত্রিক মন্ত্র পরিচালনা করবেন মাঝিপাড়া গ্রামের সন্ন্যাসী মদন বিশ্বাস। চড়ক হবেন খোকন বিশ্বাস। এ দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী মেলা অনুষ্ঠিত হবে। মেলায় স্থানীয় দোকানিরা মিষ্টিসহ মুখরোচক বিভিন্ন খাদ্য এবং শিশুদের বিভিন্ন খেলনাসামগ্রীর পসরা নিয়ে বসবেন। পরদিন শনিবার পহেলা বৈশাখে বসবে বউ মেলা। চড়ক মেলা উপলক্ষে নাইওর আসা নববিবাহিত নারীদের জন্যই এক দিনের এই মেলার আয়োজন হয়ে থাকে। মেলায় নারীদের প্রসাধনী-সামগ্রীর দোকান বসে।

প্রবীণ সাংবাদিক মুক্তিযোদ্ধা হাফিজার রহমান জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মেলার আয়োজন করলেও তাতে কেনাকাটার জন্য আশপাশের গ্রামের মুসলিম সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষরাও আসেন। শৈশবের স্মৃতি চারণ করে তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে আমি বহুবার চড়কতলা মেলায় গিয়েছি। তখন বাবা আমাকে মিষ্টি খাওয়াতেন আর টরটরি নামে খেলনা কিনে দিতেন।’

এবার রমজানে মেলায় দর্শনার্থীর উপস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে চড়কতলা মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য মিহির সরকার বলেন, ‘আমাদের এই মেলায় সনাতন ধর্মের লোকজনের পাশাপাশি মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনও উপস্থিত থাকেন। মেলায় আসা উভয় সম্প্রদায়ের ১০০ জনের ৫০ জনই মুসলিম সম্প্রদায়ের। রমজানের কারণে এবার মুসলিম সম্প্রদায়ের বড়রা হয়তো আসতে পারবেন না। তবে শিশু-কিশোরদের উপস্থিতি আগের মতোই হবে বলে আশা করছি।’

আদমদীঘির চড়কতলা মেলার পাশাপাশি বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার গাংনগর এবং শহরের পৌর পার্কেও প্রতিবছরের মতো এবারও বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। শিবগঞ্জের গাংনগর এলাকায় বৈশাখের প্রথম সোমবার অথবা বৃহস্পতিবার (যেদিন আগে আসে) মেলা শুরু হয় এবং তা ১০ দিন ধরে চলে। এবারের মেলা সোমবার (১৭ এপ্রিল) থেকে শুরু হবে। মেলায় প্রায় ৩০০ দোকান বসে। দোকানগুলোতে শিশুদের খেলনা, চুড়ি-ফিতাসহ মহিলাদের প্রসাধনসামগ্রীর পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মাছও ওঠে।

গাংগনর শিব ও শীতলা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক শংকর মোহন্ত জানান, প্রায় ৩০০ বছর আগে থেকে ওই মেলা চলে আসছে। আগে চড়ক পূজা হতো কিন্তু এখন আর হয় না। এখন শুধু পহেলা বৈশাখে শীতলা মন্দিরে পূজা হয় এবং মন্দির থেকে ৩০০ গজ দূরে মাঠে মেলা বসে।

তিনি বলেন, ‘মেলাটি এখন উপজেলা প্রশাসন থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। মেলার এক দিন আগে সেটি ডাক (টেন্ডার) হয়। ডাকের মাধ্যমে যিনি ইজারা নেন তিনি সেখান থেকে কিছু অর্থ আমাদের মন্দির কমিটিতে দেন। গত বছর ৫০ হাজার টাকা ডাক উঠেছিল আর মন্দির কমিটিতে দুই হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল।’

বগুড়া শহরের পৌর পার্কের বৈশাখী মেলার প্রচলন শুরু হয় ১৯৮১ সালে। সেই হিসাবে ওই মেলার বয়স ৪২ বছর। তবে বয়সে নবীন হলেও বগুড়া থিয়েটারের সেই মেলায় সবচেয়ে বেশি মানুষের ঢল নামে।

মেলার অন্যতম আয়োজক বগুড়া থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক তৌফিক হাসান ময়না বলেন, ‘এবার রোজার কারণে মেলাটি পহেলা বৈশাখের পরিবর্তে ঈদের দিন শুরু হবে এবং যথারীতি পাঁচ দিন চলবে।’


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা