সাভার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৩ ১৬:২৫ পিএম
আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২৩ ১৭:৫২ পিএম
চৈত্রসংক্রান্তিতে শিব-পার্বতী সেজে বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন তরুণরা। প্রবা ফটো
চৈত্র মাসের শেষ দিনে নানা পূজা আয়োজনের মধ্য দিয়ে চৈত্রসংক্রান্তি পালন করে আসছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। গ্রামে গ্রামে চৈত্রসংক্রান্তির দিন নীল পূজা ও চড়ক পূজা পালনের রীতি রয়েছে। বিদায়ী বছরের গ্লানি, ব্যর্থতা ও রোগমুক্তি কামনায় গ্রামের গৃহস্থের বাড়িতে এ পূজার আয়োজন করা হয়। ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ হলেও পঞ্জিকা অনুযায়ী একদিন আগেই চৈত্র মাস শেষ হয়। আর এই দিনে পঞ্জিকা মেনে পালন করা হয় চৈত্রসংক্রান্তি।
বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) ঢাকার ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় পালন করা হয় এসব নানা ধর্মীয় আচার।
গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের বারবাড়িয়া, গাঙ্গুটিয়া, ধামরাই পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক দলকে বাদ্যের তালে তালে নেচে-গেয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। দলের বেশির ভাগ সদস্য কিশোর, তরুণ ও যুবক।
মূলত পূজার জন্য অর্থ সংগ্রহে ৮-১২ জনের একটি দল গঠন করেন তারা। দলের সদস্যরা শিব, পার্বতী, রাধা, কৃষ্ণ, লক্ষ্মী, রাম, লক্ষ্মণ, মুনি সেজে গ্রামে গ্রামে বাড়ি বাড়ি ঘুরে নাচগান করেন। গান পরিবেশনের পর গৃহস্থরা তাদের চাল, ধান, ডাল, সবজিসহ নগদ অর্থ দেন।
শিব-গৌরি সাজা ওয়াসিম চক্রবর্তী ও অর্ণব সূত্রধর বলেন, ‘শিব-গৌরি সেজে আমরা অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী নিচ্ছি। আমরা নৃত্যের সঙ্গে ধর্মীয় সংগীত, বাউলগান পরিবেশন করি। এ ছাড়া রামায়ণ ও মহাভারতের গানও গাই আমরা।’
উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের বারবাড়িয়া গ্রামের সন্ন্যাসী মরণ বলেন, ‘প্রতি বছর চৈত্রসংক্রান্তি উৎসবের অর্থ সংগ্রহের জন্য হাটবাজার ও গ্রামে ঘুরে নাচ-গান করে টাকা ও উপঢৌকন আদায় করি। উপঢৌকন হিসেবে পাওয়া টাকা ও খাদ্য দিয়ে চৈত্রসংক্রান্তির দিন চড়ক পূজা, শিবের গাজন বা নীল পূজা পালন করি।’
পৌরাণিক ধর্ম মতে, দেবতারা সমুদ্র মন্থন করলে বিষ উঠে আসে। তখন দেবতা শিব দেখলেন এই বিষ পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়লে সমগ্র প্রাণিকুল মারা যাবে। তখন তিনি নিজে বিষ পান করে কণ্ঠে ধারণ করেন। বিষক্রিয়ায় তার কণ্ঠ নীল বর্ণ হয়ে যায়। এ কারণে শিবের অপর নাম নীলকণ্ঠ। প্রাণিকুলের সুখ-সমৃদ্ধির কামনায় চৈত্র মাসের শেষ দিন শিবের গাজন বা নীল পূজা পালন করা হয়। মূলত চৈত্রসংক্রান্তির দিন বছরের বিদায়বেলায় মানুষ অতীতের দুঃখ, কষ্ট, ব্যর্থতা, রোগ, বিপদ আপদ থেকে মুক্তির কামনা করে।