নওগাঁ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৩ ১৭:৫২ পিএম
আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৩ ১৮:২১ পিএম
বাজারে বিক্রি হওয়া মিনিকেট নামের চাল।
চাল ছাঁটাই করে চিকন আকার দিয়ে মিনিকেট নামে বিক্রি বন্ধ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। এরই মধ্যে এটি নিয়ন্ত্রণে একটি আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা এখন সংসদে যাওয়ার অপেক্ষায় বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে নওগাঁর সাপাহার, পোরশা ও নিয়ামতপুর উপজেলার প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে ‘আউশ প্রণোদনা কর্মসূচি’-এর আওতায় ধানের বীজ ও সার বিতরণ অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মিনিকেট নাম দিয়ে মানুষকে ঠকিয়ে চাল বিক্রি ও ছাঁটাই রোধে একটি আইন ইতোমধ্যে কেবিনেট মিটিংয়ে (খসড়া) চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে। এখন সংসদে যাওয়ার অপেক্ষায়।’
এ ছাড়া মজুদ, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ ও বিতরণসহ আইন অনুমোদিত হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
সাধান চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘সুখী সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলা গড়তে এ দেশের কৃষকরাই মূল ভূমিকা পালন করে। দেশে ফসল উৎপাদন হলে খাদ্য মজুদ হবে। বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবে না। এবার মাত্র ১১ লাখ মেট্রিক টন সরকারি ও বেসরকারিভাবে চাল আমদানি করা হয়েছে। এই আমদানি করার ফলে যারা মজুদদার ছিল তারা বেকায়দায় পড়েছে।’
এ ছাড়া ওএমএস চালু করায় চালের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বছরে কতটুকু সারের প্রয়োজন, কোন কোন ফসলের জন্য কতটুকু সার দরকার, সরকার সেই হিসাব করে সার কেনে। করোনা ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের মধ্যেও অর্থের জোগান দিয়ে বিদেশ থেকে বেশি দামে সার কিনে ভর্তুকি দিয়ে সুলভ মূল্যে সার সরবরাহের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনের ধারা বজায় রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ’কিছু কিছু ব্যবসায়ী আছেন যাদের অল্প লাভে পেট ভরে না। তাই নির্বাহী অফিসার ও কৃষি অফিসারদের সজাগ থাকতে হবে, সার, সেচ, কীটনাশক নিয়ে যেন কেউ অনিয়ম করতে না পারে।’
কৃষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের হিসাব রাখতে হয় আউশ, বোরো ও আমন কতটুকু উৎপাদন হবে, কতটুকু ঘাটতি হবে। তাই সরকারের দেওয়া প্রণোদনার বীজ ও সারের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে আউশের উৎপাদন বাড়িয়ে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে আপনারা ভূমিকা রাখুন।’
‘আউশ প্রণোদনা কর্মসূচি’ ২০২২-২৩-এর আওতায় সাপাহারে ১ হাজার ৯৩৫ জন, পোরশায় ১ হাজার ৯৩৫ ও নিয়ামতপুরে ৩ হাজার ৫১০ কৃষকের মাঝে এসব সার ও বীজ বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক কৃষকের মাঝে ৫ কেজি ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার বিতরণ করা হয়।