বান্দরবান প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৩ ২২:১৯ পিএম
আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৩ ২২:২১ পিএম
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় সন্ত্রাসী দুই গ্রুপের বন্দুকযুদ্ধে ৮ জন নিহতের ঘটনায় পুরো এলাকা এখন থমথমে। প্রবা ফটো
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় সন্ত্রাসী দুই গ্রুপের বন্দুকযুদ্ধে ৮ জন নিহতের ঘটনায় পুরো এলাকা এখন থমথমে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোয়াংছড়ি উপজেলা খামতাংপাড়ায় খেয়াং জনগোষ্ঠীর ৯০টি পরিবারের বসবাস। এই পাড়াটি অর্ধেক পড়েছে রোয়াংছড়ি উপজেলায় আর অর্ধেক পড়েছে রুমা উপজেলায়। গোলাগুলির ঘটনায় আতঙ্কে সীমান্তবর্তী খামতাংপাড়া এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়েছে। জীবন বাঁচাতে তারা রুমা উপজেলা সদরে ও রোয়াংছড়ি উপজেলা সদরে আশ্রয় নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক ও কুকিচিন ন্যাশনাল আর্মির (কেএনএ) মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে ৮ জন নিহত হওয়ার পর পুরো এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়েছে। রুমা উপজেলায় থাকা গ্রামের ২০টি পরিবারের নারী-পুরুষ-শিশু মিলিয়ে ৬৪ জন শুক্রবার (৭ এপ্রিল) সকালে হেঁটে রওনা দিয়ে বিকালে রুমা উপজেলা সদরে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উহ্লা মং মারমা। সেখানে তারা বম সোশ্যাল কাউন্সিলে আশ্রয় নিয়েছে।
অন্যদিকে নারী-পুরুষ-শিশুসহ ১৭৪ জন রোয়াংছড়ি উপজেলা সদরের রোয়াংছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনাস্থল খামতাংপাড়া সাবেক পাড়াপ্রধান (কার্বারি) পুতুলি খিয়াং প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে খাবার শেষে ঘুমোতে যাচ্ছিলাম। এমন সময় পাড়ার পাশের বনের ভেতর থেকে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ পেয়ে প্রাণের ভয়ে পরনের কাপড় দিয়ে যে যেদিকে পারি পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছি। এভাবে সারা রাত জঙ্গলে লুকিয়ে থেকে রোয়াংছড়ি উপজেলা সদরে পালিয়ে এসেছি। তিনি আরও জানান, রুমা ও রোয়াংছড়ির দুই উপজেলার তিনটি গ্রাম খামতাং প্রাংসাপাড়া, পাইক্ষ্যং খামতামপাড়া, খমং ক্ষ্যংপাড়া মিলে ৯০টি পরিবার নিয়ে খেয়াং জনগোষ্ঠীর পাড়া। এর মধ্যে আমরা ৬৪ জনের অধিক রুমায় আশ্রয় নিয়েছি। বাকিরা নাকি রোয়াংছড়ি উপজেলায় আশ্রয়ের জন্য পালিয়ে গেছেন বলে শুনেছি।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বান্দরবান সদর জোনের কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ফাহিম সাংবাদিকদের বলেন, খামতাংপাড়া ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম বেড়ে চলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা কেএনএফের উৎপাতে থাকতে না পেরে আশ্রয় নেওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর রোয়াংছড়ি ক্যাম্পে চলে এসেছেন। বেসামরিক প্রশাসনের সহযোগিতায় সেনাবাহিনী তাদের থাকা এবং খাবারের ব্যবস্থা করেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের এখানে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হবে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় তাদের সেখানে স্থানান্তর করা হবে।
রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোরশেদ আলম চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের সমন্বয়ে পালিয়ে আসা লোকজনকে খাবার, খাপড়সহ যাবতীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। যতদিন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হবে ততদিন তাদেরকে রোয়াংছড়ি হাইস্কুলে এবং রুমায় বম সোশ্যাল কাউন্সিলে আশ্রয়ে রাখা হবে।
এদিকে রোয়াংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মান্নান বলেছেন, ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক ও কেএনএফ সদস্যদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছেন তারা। নিহত ব্যক্তিদের পরনে বিশেষ এক ধরনের পোশাক রয়েছে। তবে এখনও তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ বান্দরবান সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত ১২ মার্চ রোয়াংছড়ির দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় কেএনএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসী দলের অতর্কিত গুলিবর্ষণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার নাজিম উদ্দিন নিহত হন। ওই ঘটনায় আহত হন আরও দুজন সেনাসদস্য।