সুজিত কুমার সরকার, সিরাজগঞ্জ
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৩ ১২:৪০ পিএম
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে করতোয়া নদীর পাড়ের মাটিতে ইট তৈরি করছে স্থানীয় আব্দুল হালিম। প্রবা ফটো
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদী খননের মাটি দিয়ে নদীপাড়ে চলাচলের রাস্তা তৈরি করে দিয়েছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড। সেই নদীপাড়ের রাস্তার মাটি ইটভাঁটার জন্য কেটে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা।
বন্ধন নামের এক ইটভাটার মালিকের নির্দেশে এমন কাজ হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। তারা মাটি কেটে নিতে বাধা দিলে মামলা-হামলার হুমকি দেয় দুর্বৃত্তরা। পার্শ্ববর্তী ওই গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দা হিন্দু সম্প্রদায়ের।
তিন বছর আগে রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সারটিয়া থেকে ঘুড়কা ইউনিয়নের দেওভোগ হয়ে সলঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার মরা করতোয়া নদী খনন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এতে নদীটি প্রাণ ফিরে পায়। খনন করা মাটি দিয়ে নদীপাড়ে চলাচলের রাস্তা করাসহ নদীর দুই তীরে লাগানো হয় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। গাছগুলো ইতোমধ্যে বড় হয়েছে।
সম্প্রতি নদীপাড়ের মাটির ওপর চোখে পড়েছে কোদলা এলাকার বন্ধন ইটভাটা মালিক আব্দুল হালিমের। তার লোকজন রাতের বেলা দেড়াগাতী গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীপাড়ের রাস্তার মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে ইটভাঁটার জন্য। এর মধ্যে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত মাটি কাটা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেড়াগাতী গ্রামের বাসিন্দারা জানায়, এই গ্রামের অধিকাংশ মানুষ হিন্দু সম্প্রদায়ের, তাই মাটি কাটতে বাধা দিলে তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন ধরে মাটি কেটে লুটপাট করা হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডর (পাউবো) এবং স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভাটার শ্রমিকরা বলেন, সরকারি মাটি কেটে ভাটার মালিক কোটিপতি হলেও দেখার কেউ নেই। তারা ভাটায় কাজ করেন, তাই কিছু বলতে পারেন না। তাদের দাবি সরকারি সম্পদ রক্ষা করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম জানান, রাত হলে যেন মাটি কাটার উৎসব শুরু হয়। অসংখ্য ডাম্পট্রাকে করে মাটি নিয়ে যাওয়া হয়। থানায় জানালেও কেউ খোঁজ নিতে আসেনি। গোপনে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ জানানো হলেও কোনো প্রতিকারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বন্ধন ইটভাঁটার মালিক আব্দুল হালিম বলেন, ‘স্থানীয় মাটি ব্যবসায়ী বাবুর কাছ থেকে মাটি কিনেছি। সে কোন জায়গা থেকে মাটি আনে তা নিয়ে আমার কোনো ধারণা নেই। এক পর্যায়ে নদীর মাটি ভাটায় আসছে স্বীকার করলেও দোষ দেন ষোলোমাইলের মাটি ব্যবসায়ী বাবুর ওপর।’
মাটি ব্যবসায়ী বাবু জানান, ভাটার মালিক আব্দুল হালিমের নির্দেশে নদীপাড়ের মাটি কেটে ভাটায় পাঠানো হচ্ছে। স্থানীয় পাউবো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গোপন চুক্তিতে আব্দুল হালিম নদীর মাটি কেটে নিচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, পাউবোর কোনো জায়গা থেকে মাটি কাটা হলে খুব দ্রুত তদন্ত করে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৃপ্তি কণা মণ্ডল বলেন, এ নিয়ে চান্দাইকোনা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।