মানিকগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৩ ১৪:১১ পিএম
আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৩ ১৫:৫০ পিএম
ভুল চিকিৎসায় নবজাতক দগ্ধ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ডা. কেরামত আলী মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে। প্রবা ফটো
মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে নবজাতক জন্মের পর কান্নাকাটি না করায় সনাতন পদ্ধতিতে নবজাতকের পায়ে তাপ (হিট) দিতে গিয়ে দুই পা পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ডা. কেরামত আলী মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। জন্মের দুই সপ্তাহ পার হলেও এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়নি ওই নবজাতক।
নবজাতকের পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ মার্চ রাতে ডা. কেরামত আলী হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি হন উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের নাজিরপুরের শুকুর আলীর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী তাজ নাহার। রাতেই তার অস্ত্রোপচার করেন ডা. মাহমুদা সুলতানা। অস্ত্রোপচারের পর নবজাতকটি কান্না না করায় তাকে সনাতন পদ্ধতিতে হিট দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ সময় অতিরিক্ত তাপে নবজাতকের দুই পা পুড়ে যায়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই নবজাতককে ঢাকার একটি হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
নবজাতকের বাবা শুকুর আলী বলেন, অসাবধানতায় হিট দেওয়ার কারণে তার সন্তানের দুই পা পুড়িয়ে ফেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শিশুটির উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পরামর্শ দেয় তারা। পরে শিশুর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হলেও শিশুটি আশঙ্কামুক্ত হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে ডা. কেরামত আলী মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার বিপ্লব দেওয়ান বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে নবজাতকটির জন্মের পর সনাতন পদ্ধতিতে হিট দেওয়া হয়। তবে আমরা যখন উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করি, তখন শিশুটির পা ভালো ছিল। যেহেতু একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাই বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে।’
মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন মোয়াজ্জেম আলী খান চৌধুরি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।