বরিশাল অফিস
প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৩ ২২:১৯ পিএম
বরিশাল জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান হাওলাদারের ভবন ভাঙ্গতে অভিযান চালিয়েছে সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) কর্মকর্তারা।
বুধবার (২৯ মার্চ) বিকাল ৩টার দিকে নগরীর নতুন বাজারের টেম্পু স্ট্যান্ড এলাকায় ওই অভিযান চালানো হয়। এ সময়ে রোড ইন্সপেক্টরসহ তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে বাড়ির মালিকসহ সাধারণ মানুষের সাথে খারাপ আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের তোপের মুখে পরে বিসিসির কর্মকর্তারা ভবন না ভেঙ্গে বুলডোজার নিয়ে স্থান ত্যাগ করে।
শাজাহান হওলাদারের অভিযোগ, সিটি মেয়র ব্যাক্তি আক্রোশ মেটাতে আধা ঘন্টার নোটিশে ভবন ভাঙ্গতে পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে মেয়রের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সড়ক পরিদর্শক রাকিবুল ইসলাম জানান, তার (শাজাহান হওলাদার) বাড়িটি পরিকল্পনা (প্লান) বর্হিভূতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। ভবনের বর্ধিত অংশ অপসারণের জন্যে নোটিশ দেওয়া হয়েছিলো।
তিনি বলেন, ভবনটির পরিকল্পনায় রয়েছে ছয় তলা এবং নিচে একাটি গ্যারেজ থাকার কথা। কিন্তু ভবনটিতে গ্যারেজ রাখেননি। এবং ছয় তলার স্থলে সাত তলা নির্মাণ করেছে। ভবন মালিককে একাধিকবার নোটিশ করা হয়েছিলো। কিন্তু কোন জবাবা পাওয়া যায়নি। বুধবার তার বাড়িতে এসে নোটিশ নিয়ে বিসিসি তাদের প্রক্রিয়া শুরু করলে ভবন মালিক কাজে বাঁধা দেয়। পরবর্তীতে আমাদের কাছে সময় চেয়েছে। তাকে সময় দেওয়ার জন্য বুলডোজর নিয়ে চলে এসেছি। বাকিটা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলতে পারবে।
শাহজাহান হাওলাদার বলেন, সিটি করপোরেশন থেকে পূর্বে কোনো ধরনের নোটিশ পাইনি। এখানে আসার ৩০ মিনিট আগে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা বহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণ করা হয়নি। উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে কাজটি করছে সিটি করপোরেশন।
তিনি আরও বলেন, ‘ব্যবসায়ী কাজে দেওয়া এক ছাত্রলীগ নেতার বাবার কাছে আমার প্রায় ১৫লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। ওই ছাত্রলীগ নেতা মেয়রের ঘনিষ্ঠ। ওই টাকা যাতে দেওয়া না লাগের সেই জন্য সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে এই কাজটি করানো হয়েছে। আমাকে সময় দেওয়া হয়েছে।’
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, পাশ করা নকশা অনুযায়ী শাজাহান হাওলাদারের বাড়িটি ছয় তলা বিশিষ্ঠ। নিচতলায় গ্যারেজ থাকার কথা। সেখানে সাত তলা করা হয়েছে। পাশাপাশি নিচে কোন গ্যারেজ নেই। অনুমোদিত পরিকল্পনা সিটি করপোরেশনে জমা দেওয়ার জন্য চলতি মাসের ৬ ও ২০ তারিখ নোটিশ করা হয়েছিলো। তার কোন জবাব না দেওয়া ২৭ মার্চ চূড়ান্ত নোটিশ করা হয়। কিন্তু নোটিশের কোন জাবাব দেননি। নোটিশ প্রাপ্তির ২৪ ঘন্টার মধ্যে অনুমোদিত পরিকল্পনা ও করপোরেশনে দাখিলও করেনি।
ভবন ভাঙার প্রস্তুতির আগেই শহরের নতুন বাজার টেম্পু স্ট্যান্ড থেকে গুপ্ত কর্নার মোড় পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকার সড়কের যান চলাচল বন্ধ করে দেয় সিটি করপোরেশনের কর্মীরা। প্রায় ঘন্টা এই ব্যবস্থাতম সড়ক আটকা থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে সাধারণ মানুষের।