নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৩ ১১:০৩ এএম
আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৩ ১২:১৩ পিএম
সৌদি আরবে দুর্ঘটনায় নিহত মো. শহিদুল ইসলাম (বাঁয়ে) ও হেলাল উদ্দিন
সৌদি আরবে বাস উল্টে নিহত বাংলাদেশি ওমরাহ যাত্রীর মধ্যে দুজনের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ ও চাটখিল উপজেলায়। তাদের মৃত্যুর খবরে পরিবারে চলছে মাতম।
সোমবার (২৭ মার্চ) সৌদি আরবের আসিয়া প্রদেশে ঘটা দুর্ঘটনায় আট বাংলাদেশি নিহত হন।
এর মধ্যে মো. হেলাল উদ্দিন নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার রামনারায়ণপুর ইউনিয়নের মিয়াজিবাড়ির মৃত হুমায়ুন কবিরের ছেলে ও মো. শহিদুল ইসলাম সেনবাগ উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামের মালেক মোল্লা বাড়ির শরিয়ত উল্লাহর ছেলে।
নিহত দুজনের পরিবারের সদস্যরা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হেলাল উদ্দিনের ছোট ভাই মো. রিপন জানান, এ বছর এক মাস আগে সৌদি আরব যান হেলাল। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। সৌদিতে কর্মরত থাকা কোম্পানির চারজন মিলে ওমরাহ করার জন্য মক্কার উদ্দেশে রওনা দেন হেলাল। দুর্ঘটনায় হেলালসহ ওই কোম্পানির তিনজন মারা গেছেন।
শহিদুল ইসলামের চাচা মো. বাবুল বলেন, ‘খবর শুনে আমাদের বিশ্বাস হয়নি। কিছুদিন আগেও ভিডিওকলে সে বলেছিল ঈদে সবার জন্য কেনাকাটা করতে টাকা পাঠাবে। তার আগেই আল্লাহ তাকে না-ফেরার দেশে নিয়ে গেল।’
সোমবার ইয়েমেন সীমান্তবর্তী আসির প্রদেশের আকাবা শার এলাকায় এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। বাসের আরোহীরা ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় যাচ্ছিলেন। ব্রেক ফেইল করে একটি সেতুর ওপর উল্টে গিয়ে বাসটিতে আগুন ধরে যায় বলে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গালফ নিউজের খবরে বলা হয়।
মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) রাত ১টার দিকে জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেলের ফার্স্ট সেক্রেটারি (লেবার) মো. আকতারুজ্জামান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, বাসটিতে মোট ৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। এর মধ্য ৩৫ জন বাংলাদেশি। নিহত ২২ জনের মধ্যেও বাংলাদেশি আটজন। এর মধ্যে এখনও ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
জেদ্দা থেকে ৬০০ কিলোমিটার দূরে যাওয়ার পথে বাসটি গভীর খাদে পড়ে যায়। দেশটির সংবাদমাধ্যম জানায়, বাসটিতে আগুন ধরে যাওয়ায় মরদেহগুলোর চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে। ফলে অনেকের পরিচয় শনাক্ত করতে সমস্যা হচ্ছে।